গাজায় ইনসুলিন সংকটে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে ডায়াবেটিস রোগীরা

গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা যুদ্ধের কারণে ডায়াবেটিস রোগীদের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ছে। পর্যাপ্ত ইনসুলিন সংকটে ধুঁকছে রোগীরা।
ইনসুলিন, রক্তে শর্করা মাপার যন্ত্র এবং পরীক্ষার স্ট্রিপের ঘাটতি তাদের দৈনন্দিন জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।
গাজা সিটির দক্ষিণের জেইতুন এলাকার ২০ বছর বয়সী হামজা আল-গাজালি প্রতিদিনের মতো আবারও ইনসুলিনের খোঁজে বের হন। টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হামজার জন্য নিয়মিত ইনসুলিন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে তার জীবন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের আগে একটি ইনসুলিন পেনের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩৫ শেকেল। বর্তমানে একই পেন কিনতে গুনতে হচ্ছে ৭৫ থেকে ১০০ শেকেল। প্রতি মাসে ছয় থেকে সাতটি পেন প্রয়োজন হওয়ায় হামজাকে বাধ্য হয়ে প্রতিটি পেন দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে হচ্ছে।
তিনি জানান, এক সময় উত্তর গাজায় খাদ্য সংকট দেখা দিলে যা পাওয়া যেত তাই খেতে হতো। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগী হওয়ায় খাবার ও ইনসুলিনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যাপ্ত ইনসুলিন ছাড়া খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে, আবার কম খেলে মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
গাজায় এখন রক্তে শর্করা পরীক্ষার স্ট্রিপও তীব্র সংকটে রয়েছে। ফলে অনেক রোগী নিয়মিত পরীক্ষা করতে পারছেন না। হামজার ভাষায়, এতে চিকিৎসা অনেকটা অনুমানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ থেকে ৮০ হাজার ডায়াবেটিস রোগী স্বাস্থ্য বর্তমানে ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় আড়াই হাজার শিশু টাইপ-১ ডায়াবেটিস নিয়ে অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় জীবনযাপন করছে। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা, দ্রুত প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

About Desk 3

Check Also

বেলুচিস্তানে গুম ও নির্বিচারে আটকের অভিযোগ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম, নির্বিচারে আটক এবং জোর করে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *