জাতীয় সংসদে প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কৌশলে এসেছে নতুন মাত্রা। দলটি এখন একযোগে সংসদ, রাজপথ, সংগঠন সম্প্রসারণ এবং আইনি লড়াই—এই চারটি ক্ষেত্রকে সামনে রেখে এগোচ্ছে। লক্ষ্য একদিকে সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভাবমূর্তি গড়া, অন্যদিকে মাঠের কর্মীদের সক্রিয় রাখা।
সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন পর্যন্ত সরকারবিরোধী বিভিন্ন ইস্যুতে সরব থেকেছে জামায়াত। আইনশৃঙ্খলা, বাজেট, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রশাসনসহ নানা বিষয়ে দলটির সংসদ সদস্যরা নিয়মিত বক্তব্য দিয়েছেন। একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে চারবার ওয়াকআউটও করেছে তারা। পাশাপাশি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিও সংসদে তুলছে দলটি। তবে নতুন হিসেবে সংসদীয় অভিজ্ঞতার ঘাটতি কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত।
সংসদের বাইরে রাজপথেও সক্রিয় রয়েছে জামায়াত। গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়েছে দলটি এবং তাদের মিত্ররা। বিভাগীয় সমাবেশের ধারাবাহিক কর্মসূচি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, যা জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত চলবে। অক্টোবর মাসে ঢাকায় বড় সমাবেশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
দলটির মূল রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা। এর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সীমান্ত ইস্যুগুলোও তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংঘাতের পরিবর্তে ধারাবাহিক চাপ সৃষ্টি এবং জনমত গঠনের কৌশল নিয়েছে জামায়াত। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন শক্তিশালী করার কাজও চলছে। দলের ভেতরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অন্যদিকে আদালতেও সক্রিয় রয়েছে দলটি। নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে কয়েকটি আসনে মামলা করা হয়েছে, যদিও শুনানি এখনো শুরু হয়নি।
সব মিলিয়ে সংসদে সংযত অবস্থান এবং রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতির সমন্বয় ঘটিয়ে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে জামায়াত। এই কৌশল কতটা সফল হবে, সেটিই এখন দলটির সামনে বড় পরীক্ষা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Geopulse TV
