ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। আগামী জুলাই মাসে কয়েকটি ইরানি শহরে একাধিক ধাপে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে। এরপর তেহরান ও কোম শহরে শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ৯ জুলাই খামেনির জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে চূড়ান্ত দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথমে চলতি বছরের মার্চ মাসে শেষকৃত্য আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী জুলাই মাসে কয়েক দিনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় জানানো হবে ইরানের দীর্ঘদিনের এই নেতাকে। অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা করছে তেহরান।
খামেনির মৃত্যুর পর ভারত সরকারও শোক প্রকাশ করেছিল। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাসে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। ভারত ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিতে ভারত সফর করেন। সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগে ২০২৪ সালে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পরও ভারত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে পাঠিয়েছিল।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, খামেনির রাষ্ট্রীয় দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সিরিয়া, লেবানন, রাশিয়া, চীন এবং মধ্য এশিয়ার কয়েকটি দেশ প্রতিনিধি পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে এই অনুষ্ঠান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Geopulse TV
