ভারত ও জাপান সন্ত্রাসবাদ এবং সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ নিয়েও স্পষ্ট ও কড়া অবস্থান তুলে ধরেন দুই নেতা।
যৌথ বিবৃতিতে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে সংঘটিত জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই প্রকাশিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মনিটরিং টিমের প্রতিবেদনে ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর উল্লেখের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
দুই প্রধানমন্ত্রী ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলারও কড়া নিন্দা জানান। তারা বলেন, এই ধরনের নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী, মদতদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘ ঘোষিত সব সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আল-কায়েদা, আইএসআইএস (দায়েশ), লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মোহাম্মদ এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস, সন্ত্রাসে অর্থায়নের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সীমান্তপারে জঙ্গিদের চলাচল বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন দুই নেতা।
বৈঠকে অবাধ, উন্মুক্ত ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভারত-জাপান সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। কোয়াড কাঠামোর অধীনে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন দুই প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
Geopulse TV
