ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে ফের কঠোর অবস্থান নিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Khawaja Asif স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর আহ্বানে ইসলামাবাদ কোনোভাবেই “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস”-এ যোগ দেবে না, যদি তা পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘সামা টিভি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, “ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, এমন কোনো চুক্তিতে আমাদের যোগ দেওয়া উচিত নয়, যা আমাদের মৌলিক আদর্শের বিরুদ্ধে যায়।”
সম্প্রতি ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনা ঘিরে সংশ্লিষ্ট মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যোগ দেয়। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন এই চুক্তির সদস্য। ট্রাম্প আশা করছেন, সৌদি আরব, কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও জর্ডানও এতে যোগ দেবে।
তবে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে অটল। দেশটির অবস্থান হলো—১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।
খাজা আসিফ বলেন, “এই বিষয়ে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। এটি আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।”
তিনি ইসরায়েলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, “যাদের কথার ওপর একদিনের জন্যও ভরসা করা যায় না, তাদের সঙ্গে কীভাবে বসবেন?”
গত মাসেও খাজা আসিফ ইসরায়েলকে “মানবতার জন্য অভিশাপ” বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং অঞ্চলজুড়ে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ আনেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত জটিল এক কূটনৈতিক সমীকরণ। একদিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জনমত ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব।
ফলে ট্রাম্পের প্রস্তাব পাকিস্তানের জন্য এক বড় কূটনৈতিক চাপ তৈরি করলেও, আপাতত ইসলামাবাদ তাদের ঐতিহ্যগত ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান থেকে সরে আসছে না।
Geopulse TV
