বিশ্বের অন্যতম ক্ষমতাধর নেতা… আন্তর্জাতিক সফর… ক্যামেরার সামনে হঠাৎ স্ত্রীর ধাক্কা!
সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল গোটা পৃথিবীতে। অনেকে বলেছিলেন— এটা নিছক মজা।
আবার কেউ বলেছিলেন— ফরাসি প্রেসিডেন্টের সংসারে বড় ফাটল ধরেছে!
আর এবার সেই বিতর্কে নতুন বিস্ফোরণ। একটি নতুন বই দাবি করেছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron-এর ফোনে অভিনেত্রী Golshifteh Farahani-র কিছু ঘনিষ্ঠ মেসেজ দেখেই নাকি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন ফার্স্ট লেডি Brigitte Macron!
তাহলে কি সত্যিই ম্যাক্রোঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঝড় উঠেছিল? নাকি এটা শুধুই রাজনৈতিক গসিপ? আর কেন “French Slapgate” আবার নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের কেন্দ্রে?
ভাইরাল সেই মুহূর্ত: কী হয়েছিল বিমানের দরজায়?
২০২৫ সালের মে মাস। ভিয়েতনাম সফরে পৌঁছেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ও তাঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ। বিমান থেকে নামার ঠিক আগে ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অদ্ভুত মুহূর্ত। ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রিজিত আচমকা ম্যাক্রোঁর মুখ সরিয়ে দেন বা ধাক্কা দেন। কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্বজুড়ে শুরু হয় জল্পনা— ফরাসি প্রেসিডেন্ট দম্পতির সম্পর্কে কি সমস্যা চলছে?
যদিও পরে ম্যাক্রোঁ নিজেই বলেন, তারা নাকি “মজা করছিলেন”। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দফতরও পুরো ঘটনাকে “horseplay” বা হালকা মজার ঘটনা বলে দাবি করে। কিন্তু বিতর্ক থামেনি।
নতুন বইয়ে বিস্ফোরক দাবি
সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে একটি বই— “An (almost) perfect couple”। বইটির লেখক ফরাসি সাংবাদিক Florian Tardif। এই বইতেই করা হয়েছে সবচেয়ে বড় দাবি। লেখকের কথায়, কয়েক মাস ধরে ম্যাক্রোঁ এবং অভিনেত্রী গোলশিফতেহ ফারাহানির মধ্যে একটি “platonic relationship” বা গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে শুধু বন্ধুত্বেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
বই অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তিগত মেসেজে অভিনেত্রী নাকি ম্যাক্রোঁকে লিখেছিলেন—
“আমি আপনাকে খুব আকর্ষণীয় মনে করি।” আর ম্যাক্রোঁও নাকি জবাবে লিখেছিলেন—
“আমিও আপনাকে খুব সুন্দর মনে করি।” এই মেসেজগুলিই নাকি পুরো বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ কীভাবে জানতে পারলেন?
বইয়ের দাবি অনুযায়ী, ভিয়েতনামে নামার ঠিক আগে বিমানের ভিতরে ম্যাক্রোঁর ফোনে সেই মেসেজগুলি দেখতে পান ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ। তারপরই নাকি দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
আর সেই উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশই ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল।
লেখক ফ্লোরিয়ান তারদিফ RTL রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তাঁর কাছে এই তথ্য এসেছে ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে। তবে তিনি এটাও বলেছেন, সম্পর্কটি “platonic” হলেও কিছু কথোপকথন “অনেক দূর” গিয়েছিল। এই মন্তব্য সামনে আসতেই ফরাসি রাজনীতিতে নতুন ঝড় শুরু হয়েছে।
কে এই গোলশিফতেহ ফারাহানি?
Golshifteh Farahani ইরানে জন্মগ্রহণ করলেও বর্তমানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র জগতে পরিচিত মুখ। তিনি হলিউড ও ইউরোপীয় সিনেমায় অভিনয় করেছেন এবং বহু আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। এর আগেও তাঁর সঙ্গে ম্যাক্রোঁর সম্পর্ক নিয়ে গুজব ছড়িয়েছিল।
তবে অভিনেত্রী সেই সব দাবি অস্বীকার করেছিলেন। নতুন বই প্রকাশের পরও তিনি এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।
ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর টিম কী বলছে?
ফার্স্ট লেডির ঘনিষ্ঠ মহল এই পুরো অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম POLITICO-কে ব্রিজিতের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, এই অভিযোগ “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন”। ম্যাক্রোঁর ঘনিষ্ঠ মহলও একই দাবি করেছে। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট দম্পতির তরফে স্পষ্ট বার্তা— এটি গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়।
তবে লক্ষণীয় বিষয় হল, ফরাসি প্রেসিডেন্টের অফিস এলিসি প্যালেস এখনও নতুন বইয়ের অভিযোগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
কেন এত বড় বিতর্ক তৈরি হল?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ। প্রথমত, ম্যাক্রোঁ ও ব্রিজিতের সম্পর্ক বরাবরই আন্তর্জাতিক মিডিয়ার নজরে থেকেছে। দু’জনের বয়সের বড় পার্থক্য নিয়েও বহুবার বিতর্ক হয়েছে। দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কোনও ছোট মুহূর্তও মুহূর্তের মধ্যে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। আর তৃতীয়ত, ইউরোপে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বিমানের দরজার কয়েক সেকেন্ডের একটি ভিডিও আজ আন্তর্জাতিক “স্ল্যাপগেট”-এ পরিণত হয়েছে।
ট্রাম্পও করেছিলেন মজা!
এই ঘটনা এতটাই ভাইরাল হয়েছিল যে পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-ও বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করেছিলেন। এর ফলে বিতর্ক আরও বেড়ে যায়।
সমালোচকদের একাংশ বলছে, ব্যক্তিগত ঘটনা নিয়ে অতিরিক্ত রাজনৈতিক নাটক তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, ক্ষমতাশালী নেতাদের ব্যক্তিগত আচরণও জনসমক্ষে প্রশ্নের মুখে পড়তেই পারে।
আসল সত্যি কী?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনও একই— ম্যাক্রোঁ ও অভিনেত্রীর সম্পর্ক কি সত্যিই শুধুই বন্ধুত্ব ছিল?
নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও গল্প রয়েছে? এই মুহূর্তে কোনও প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
সব অভিযোগই মূলত বইয়ের দাবি এবং বেনামী সূত্রের উপর নির্ভর করছে। কিন্তু তবুও “French Slapgate” আবারও প্রমাণ করল— বিশ্ব রাজনীতিতে কখনও কখনও ব্যক্তিগত মুহূর্তও আন্তর্জাতিক কূটনীতির মতোই বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
সূত্র-NDTV
Geopulse TV
