মধ্য এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্যে চার দিনের বিদেশ সফরে রওনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উজবেকিস্তান ও কিরগিজ প্রজাতন্ত্র সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও ডিজিটাল যোগাযোগ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করবেন তিনি। পাশাপাশি কিরগিজস্তানে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফরের আগে দেওয়া বিবৃতিতে মোদী বলেন, উজবেকিস্তান ও কিরগিজস্তানের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সভ্যতাগত সম্পর্ক আরও গভীর করাই তাঁর সফরের অন্যতম লক্ষ্য। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত-উজবেকিস্তান কৌশলগত অংশীদারত্বে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
উজবেকিস্তানে প্রেসিডেন্ট শাভকত মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদী। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি ভারতের ‘বিকশিত ভারত’ এবং উজবেকিস্তানের ‘ইয়াঙ্গি উজবেকিস্তান’-এর অভিন্ন লক্ষ্য নিয়েও মত বিনিময় করবেন দুই নেতা।
সফরকালে তাসখন্দে শাস্ত্রী স্মারক এবং তাসখন্দ স্টেট ইউনিভার্সিটি অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের মহাত্মা গান্ধী কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ভারত-উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের বন্ধনকে তুলে ধরতেই এই কর্মসূচি বলে মনে করা হচ্ছে।
এর পর কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে যাবেন মোদী। প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে সেখানে এসসিও-র ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। সম্মেলনে নিরাপত্তা, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে মধ্য এশিয়া নিয়ে ভারতের ভাবনা তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে যৌথ লড়াইয়ের উপরও জোর দেবেন মোদী। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি এখনও আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি।
কিরগিজস্তান সফরে জাপারভ এবং এসসিও-র অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি ষষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে তাঁর।
Geopulse TV
