আট মাসের মধ্যে নির্বাচন লিবিয়ায়, দীর্ঘ সংকট কাটাতে রোডম্যাপে ঐকমত্য

লিবিয়ার শীর্ষ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজনের জন্য একটি রোডম্যাপে সম্মত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গৃহীত এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী আট মাসের মধ্যে দেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

লিবিয়ার পার্লামেন্ট, প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল এবং হাই কাউন্সিল অব স্টেটের প্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই রোডম্যাপের উদ্দেশ্য হলো দেশটির দীর্ঘদিনের অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পর্বের অবসান ঘটানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে একীভূত করা।

উত্তর আফ্রিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ লিবিয়া ২০১১ সালে ন্যাটো-সমর্থিত বিদ্রোহের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংঘাতের মধ্যে রয়েছে।

বর্তমানে দেশটি কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। রাজধানী ত্রিপোলিভিত্তিক জাতিসংঘ স্বীকৃত সরকার এবং পূর্বাঞ্চলের বেনগাজি ও তবরুককেন্দ্রিক প্রশাসনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চলছে।

বেনগাজিভিত্তিক পার্লামেন্টের স্পিকার আগুইলা সালেহ, ত্রিপোলিভিত্তিক প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের প্রধান মোহামেদ আল-মেনফি এবং হাই কাউন্সিল অব স্টেটের প্রধান মোহাম্মদ তাকালা জানিয়েছেন, একই সময়ে প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সম্ভাব্য নির্বাচনের তারিখ হিসেবে ২০২৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে।

তবে পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) বৃহস্পতিবারের রোডম্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেনি। বরং তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পৃথক পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছে, যার লক্ষ্য লিবিয়ার নির্বাহী ক্ষমতাকে একত্রিত করা।

সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরব ও আফ্রিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোসের মাধ্যমে লিবিয়ার পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে।

এলএনএ জানিয়েছে, বুলোসের পরিকল্পনা “একটি অনন্য ও স্বতন্ত্র উদ্যোগ” এবং এটি লিবিয়ার রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ তৈরি হবে।

দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২১ সালের শেষ দিকে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে সেই নির্বাচন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায়।

লিবিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বক্তব্য দিয়েছেন লিবিয়ায় জাতিসংঘ সহায়তা মিশনের প্রধান হানা তেত্তেহ। তিনি দেশটির রাজনৈতিক অগ্রগতি ও নির্বাচন আয়োজনের প্রচেষ্টার বিষয়ে পরিষদকে অবহিত করেন।

 

About Desk 1

Check Also

এক বছরে ১৩ হাজারের বেশি জঙ্গি নিহত, দাবি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট টিনুবুর

জঙ্গিবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্যের দাবি নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলো টিনুবু দাবি করেছেন, গত এক বছরে দেশটির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *