সরকার পরিবর্তনের পরও বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার অভিযোগ থামছে না। এবার ফরিদপুরের মধুখালীতে একটি কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই দিনে একই এলাকার দুটি মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৭ জুন) রাতের কোনও এক সময়ে উপজেলার মেঘচামী ইউনিয়নের বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা মন্দিরে ঢুকে একটি প্রতিমার মাথা ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় শতবর্ষী এই মন্দিরটি পাকা ভিত ও দেয়াল দিয়ে নির্মিত। চারচালা টিনের ছাউনি দেওয়া মন্দিরটির সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা রয়েছে। অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা গ্রিলের ফাঁক দিয়ে বাঁশ বা কোনও লাঠি ঢুকিয়ে শিবমূর্তির মাথা ভেঙে ফেলে।
মন্দিরের পূজারি বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস বৃহস্পতিবার ভোরে মন্দিরে গিয়ে বিষয়টি দেখতে পান। পরে তিনি মন্দির কমিটির সভাপতি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি জানান।
বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দির কমিটির সভাপতি রঞ্জন সরকার জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি থানায় বিষয়টি জানান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে বামুন্দী বাজারের একটি কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। তবে ওই ঘটনায় এখনও কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বামুন্দী বাজার কমিটির সভাপতি নিরোদ চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা জানা না থাকায় তিনি কার বিরুদ্ধে মামলা করবেন তা বুঝতে পারেননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বাজারের মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনা জানানো হলে পুলিশ দ্রুত বিষয়টি শেষ করার পরামর্শ দেয় এবং ভাঙা প্রতিমা বিসর্জনের কথা বলে। তাঁদের দাবি, ওই পরামর্শ অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রতিমাটি বিসর্জন দেওয়া হয়।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুকদেব রায়। তিনি বলেন, ঘটনা গোপন করার বা মামলা না নেওয়ার কোনও কারণ নেই। বাজারের মন্দিরের ঘটনায় এখনও মামলা করার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বামুন্দী সার্বজনীন কালীমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরপর দুটি মন্দিরে ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Geopulse TV
