৪০টি ল্যাবের তথ্য প্রকাশ, বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণার দাবি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের (DNI) পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড শুক্রবার নতুন কিছু নথি প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে রাশিয়ার RT News। ওই নথির দাবি, ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন ও সহযোগিতায় পরিচালিত বায়োল্যাবগুলিতে বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল।
RT News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপনীয়তা তুলে নেওয়া (declassified) নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে ৪০টি বায়োল্যাব “তৈরি ও সমর্থন” করেছিল। এসব ল্যাবে অ্যানথ্রাক্স, বার্ড ফ্লু, ইবোলা, প্লেগ এবং যক্ষ্মার মতো “অত্যন্ত বিপজ্জনক জীবাণু” নিয়ে কাজ করা হতো বলে দাবি করা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, অন্তত ১২টি ল্যাবে মানুষের ওপর গবেষণা চলছিল। কয়েকটি গবেষণায় তথাকথিত ‘গেইন অব ফাংশন’ (Gain of Function) পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। এই পদ্ধতিতে প্রাণীর ভাইরাসের পরিবর্তন ঘটিয়ে তার সংক্রমণ ক্ষমতা বা ক্ষতিকর প্রভাব বাড়িয়ে মানুষের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গবেষণা করা হয়।

মার্কিন অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতার দাবি
RT News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আংশিকভাবে প্রকাশিত নথিতে উল্লেখ রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত চারটি গবেষণাগার নির্মাণ ও সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ৯ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছে।
নথিতে আরও দাবি করা হয়েছে, এসব গবেষণাগার যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দফতর, মার্কিন সেনাবাহিনী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), জাতিসংঘ এবং একাধিক মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করেছে। বায়োটেক সংস্থা Metabiota-র নামও অংশীদার হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এই সংস্থায় হান্টার বাইডেনের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের অংশীদারিত্ব ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাশিয়ার অভিযোগ ও ইউক্রেনের ল্যাব নিয়ে বিতর্ক
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ সেনা ইউক্রেনে প্রবেশের পর রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছিল, ইউক্রেন সরকার মার্কিন অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি ল্যাবে থাকা জীবাণু “জরুরি ভিত্তিতে ধ্বংসের” নির্দেশ দিয়েছিল।
রাশিয়ার দাবি ছিল, ওই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইউক্রেন মার্কিন জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচিতে নিজের ভূমিকা গোপন করার চেষ্টা করেছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত নথিতে ইউক্রেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল, যেখানে প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স, টিউলারেমিয়া, কলেরা ও অন্যান্য প্রাণঘাতী রোগের জীবাণু ধ্বংসের কথা বলা হয়েছিল।
রাশিয়ার রেডিওলজিক্যাল, কেমিক্যাল অ্যান্ড বায়োলজিক্যাল ডিফেন্স ফোর্সের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগর কিরিলভ ২০২৩ সালে বলেছিলেন, **“যুক্তরাষ্ট্র, বৈশ্বিক বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করার আড়ালে, রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় জীবাণু অস্ত্রের উপাদান তৈরির মতো দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য গবেষণা চালিয়েছে।”**
তবে এই অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন বরাবরই অস্বীকার করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগের অবস্থান কী ছিল ?
২০২২ সালের মার্চে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের তৎকালীন আন্ডার সেক্রেটারি ভিক্টোরিয়া নুল্যান্ড স্বীকার করেছিলেন যে, “ইউক্রেনে জৈব গবেষণাগার রয়েছে।”
তবে তিনি একই সঙ্গে বলেছিলেন, এসব কেন্দ্র জীবাণু অস্ত্র নিয়ে কাজ করে না এবং “যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে কোনো রাসায়নিক বা জৈব গবেষণাগারের মালিক নয় এবং পরিচালনাও করে না।”
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর তখন রাশিয়ার অভিযোগকে “সম্পূর্ণ মিথ্যা” বলে দাবি করেছিল। জাতিসংঘে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ডও বলেছিলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত কোনো ইউক্রেনীয় জীবাণু অস্ত্র গবেষণাগার নেই।”
গ্যাবার্ডের পদক্ষেপ
RT News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাবার্ড শুক্রবার এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণার সম্ভাব্য বৈশ্বিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কিছু রাজনীতিক, তথাকথিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের কিছু ব্যক্তি মার্কিন জনগণকে তথ্য গোপন করেছেন।
গ্যাবার্ড বলেন, “বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে গবেষণার ভয়াবহ বৈশ্বিক প্রভাবের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, রাজনীতিবিদ, তথাকথিত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ যেমন ড. ফাউচি এবং বাইডেন প্রশাসনের জাতীয় নিরাপত্তা দলের কিছু সংস্থা মার্কিন জনগণের কাছে মার্কিন অর্থায়িত ও সমর্থিত বায়োল্যাবগুলির অস্তিত্ব নিয়ে মিথ্যা বলেছে এবং যারা সত্য প্রকাশের চেষ্টা করেছে তাদের হুমকি দিয়েছে।”
তিনি আরও জানান, ইউক্রেনের ল্যাব এবং বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত বায়োল্যাব নেটওয়ার্ক থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে গ্যাবার্ড বেশিদিন এই দায়িত্বে থাকবেন না। তাঁর স্বামীর বিরল ধরনের হাড়ের ক্যানসার ধরা পড়ার পর তিনি জুনের শেষে পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের মার্কিন অ্যাটর্নি জে ক্লেটনের নাম ঘোষণা করেছেন। ক্লেটন বায়োল্যাব বিতর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
Geopulse TV
