হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাদা বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গতকাল ওভাল অফিসে রুদ্ধদ্বার এই দুই বৈঠক হয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট জানিয়েছেন, দুই নেতার সঙ্গেই ট্রাম্পের বৈঠক ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকটি ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধ শুরু করার পর এই প্রথম ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু মুখোমুখি বৈঠকে বসলেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁদের মধ্যে আলোচনা চলে। তবে বৈঠকে ঠিক কী কী বিষয়ে কথা হয়েছে, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস কিংবা ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর তাৎক্ষণিক ভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
অন্য দিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে গিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর তাঁকে ধন্যবাদ জানান। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ইউক্রেনকে সহায়তা করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি। চার বছরেরও বেশি সময় আগে রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই এই যুদ্ধ চলছে।
জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অগ্রগতি নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ড্রোন সংক্রান্ত একটি চুক্তি, ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং শান্তি আলোচনা নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কথা হওয়ার কথা ছিল।
বৈঠকের পর জেলেনস্কির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল। তিনি মার্কিন আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে দেখা করার পাশাপাশি পুরো সেনেটের এক সমাবেশেও বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল।
ট্রাম্পের সঙ্গে একই দিনে জেলেনস্কি ও নেতানিয়াহুর পৃথক বৈঠক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে নজর কেড়েছে। এক দিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানের চেষ্টা, অন্য দিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা—দুই ক্ষেত্রেই ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক ভূমিকা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Geopulse TV
