বিশ্বের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ভারতের গুরুত্ব আরও বাড়ল। আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণ শিল্পে নাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। BIMCO-ICS Seafarer Workforce Report 2026 অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জাহাজে কাজ করছেন ভারতের ৩ লক্ষ ১১ হাজার ৯৩৬ জন সামুদ্রিক পেশাজীবী। বিশ্বজুড়ে মোট নাবিক কর্মশক্তির ১২.১৬ শতাংশ ভারতের।
নাবিক সরবরাহে ভারতের আগে রয়েছে শুধু ফিলিপিন্স। তালিকায় ভারতের পরেই রয়েছে চিন, রাশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। সামুদ্রিক ক্ষেত্রে ভারতের এই উত্থানকে দেশের নৌপরিবহণ শিল্পের ইতিহাসে অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই জায়গায় পৌঁছতে ভারতের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। ২০১৫ সালে বিশ্বের মোট নাবিক কর্মশক্তিতে ভারতের অংশ ছিল মাত্র ৫.২ শতাংশ। সে সময় বিশ্বের নাবিক সরবরাহকারী দেশগুলির তালিকায় ভারত ছিল পঞ্চম স্থানে। ভারতের আগে ছিল চিন, ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া এবং রাশিয়া।
এর ছয় বছর পর, ২০২১ সালে ভারতের অংশ কিছুটা বেড়ে ৬ শতাংশে পৌঁছয়। কিন্তু তখনও বিশ্বে নাবিক সরবরাহের দিক থেকে ভারতের অবস্থান ছিল পঞ্চম। এরপর গত কয়েক বছরে ভারতীয় সামুদ্রিক পেশাজীবীদের সংখ্যা এবং আন্তর্জাতিক জাহাজে তাঁদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৬ সালের BIMCO-ICS রিপোর্টে সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। এক দশকের মধ্যে বিশ্ব নাবিক সরবরাহের তালিকায় পঞ্চম স্থান থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারতের সামুদ্রিক দক্ষতা ও কর্মশক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরছে।
বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। ফলে দক্ষ নাবিকের চাহিদা আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক প্রশিক্ষিত ভারতীয় নাবিকের আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মসংস্থান দেশের সামুদ্রিক খাতের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই বিশ্ব নৌপরিবহণে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিতও দিচ্ছে।
Geopulse TV
