যুক্তরাষ্ট্রে বহুল আলোচিত লেখক সালমান রুশদির ওপর হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে ফেডারেল আদালত। ২০২২ সালের ওই নৃশংস হামলার জন্য অভিযুক্ত হাদি মাতারকে সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২৮ বছর বয়সী হাদি মাতার “ট্রান্সন্যাশনাল টেররিজম”-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। জুরি বোর্ড অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে সব অভিযোগে দোষী ঘোষণা করে।
এর আগে, একই ঘটনায় নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আদালতে হত্যাচেষ্টার দায়ে মাতারের ২৫ বছরের কারাদণ্ড হয়। তবে নতুন করে ফেডারেল আদালতের এই রায়ের ফলে তার শাস্তি আরও বাড়তে পারে, এমনকি আজীবন কারাদণ্ডের মুখেও পড়তে পারেন তিনি।
২০২২ সালের আগস্টে নিউইয়র্কের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার ঠিক আগে মঞ্চে উঠে সালমান রুশদির ওপর হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করা হয়, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান।
মামলায় প্রসিকিউশন দাবি করেছে, বহু বছর আগে প্রকাশিত রুশদির বই The Satanic Verses ঘিরে জারি হওয়া ফতোয়ার প্রভাবেই এই হামলা চালানো হয়। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামলাকারীর চরমপন্থী মতাদর্শের প্রতি সমর্থন ছিল এবং সে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের প্রতিও সহানুভূতিশীল ছিল।
উল্লেখ্য, ওই বই প্রকাশের পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মধ্যে ছিলেন সালমান রুশদি। এই হামলা সেই পুরনো হুমকিরই বাস্তব রূপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এই রায়ের পর আবারও সামনে এসেছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—বিশ্বজুড়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কতটা নিরাপদ? লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা কি সত্যিই নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারছেন?
Geopulse TV
