যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া ৬ দিন কমালো সিউল

যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া ছয় দিন কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে সিউল। ২০২৬ সালের ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়ার সময়সীমা ও পরিসর পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মহড়াটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা থাকলেও এখন তা শেষ হবে ২১ আগস্ট। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই মহড়ার সময় ও পরিসরে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

মহড়ার মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণও আংশিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হবে। তবে ঠিক কতটা কমানো হবে, সে বিষয়ে দুই দেশ এখনো আলোচনা করছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া সামরিক মহড়া কমানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন সংসদীয় শুনানিতে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে দক্ষিণ কোরিয়া বা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না।

যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশ দুটির নিরাপত্তা সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত জাপান ও তাইওয়ানের মতো এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন মিত্রদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।

এদিকে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ট্রাম্প তার সহযোগীদের উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরির জন্য চাপ দিচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প যৌথ সামরিক মহড়াকে ব্যয়বহুল এবং ‘অনুপযুক্ত ও বৈরী সংকেত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কিন্তু সিউল তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ও ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে ইরান ইস্যুতে সিউলের সহযোগিতা না করার সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৩৯ হাজার মার্কিন সেনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

গত সপ্তাহে মার্কিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তারা যৌথভাবে ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তখন বলা হয়েছিল, আগের বছরগুলোর মতোই মহড়ার পরিসর থাকবে এবং এতে প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেবে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় ২৮ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

মহড়ার সময় উত্তর কোরিয়ার সেনাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেছিলেন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা। ওয়াশিংটনের দাবি, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উত্তর কোরিয়ার সেনারা ফিরে এলে তাদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার বিষয়টি যৌথ প্রশিক্ষণে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

তবে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুরু থেকেই এই সামরিক মহড়ার বিরোধিতা করে আসছে। দেশটি যৌথ মহড়াকে ‘আগ্রাসী যুদ্ধের মহড়া’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

ফলে ২০২৬ সালের যৌথ সামরিক মহড়া ছয় দিন কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সম্পর্কেই নয়, উত্তর কোরিয়া ও পুরো পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

About Desk 1

Check Also

বেলুচিস্তানে গুম ও নির্বিচারে আটকের অভিযোগ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে

পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক গুম, নির্বিচারে আটক এবং জোর করে স্থানীয় বাসিন্দাদের উচ্ছেদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *