শিশু, কিশোর ও তরুণদের নির্মমভাবে হত্যার পর শেখ হাসিনার আর কোনো ক্ষমা নেই এবং বাংলাদেশে ফিরে তাঁর আবার রাজনীতি করার কোনো সুযোগ থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী । আজ শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সমাবেশে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় প্রচণ্ড চাপ ও হুমকি থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়া দেশ ছেড়ে যাননি, অথচ সেই সংকটের সময়ে শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্রে চলে গিয়েছিলেন। শেখ হাসিনার শাসনামলেও খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারানির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে, কিন্তু তিনি কোনো অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। শেখ হাসিনার নিষ্ঠুরতার তুলনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইয়াহিয়া খান ও টিক্কা খানকে মানুষ রক্তপিপাসু হিসেবে চিনত, কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কোনো অংশে কম করেননি। কারাগারে আমাদের নেতাদের ওপর হাত তোলার ঘটনা না দেখলে তাঁর এই নির্মম রূপ বোঝা যেত না।
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছেন, এমনকি তাঁর বাবাও অতীতে একই ধরনের কাজ করেছিলেন। হিটলারের দল যেভাবে ইতিহাসে আর ফিরে আসতে পারেনি, ঠিক একইভাবে এই ফ্যাসিস্ট দলটিরও রাজনীতিতে ফেরার কোনো অধিকার নেই; কারণ এদের রক্তের মধ্যেই রয়েছে ফ্যাসিবাদ ও ভয়ংকর রক্তপিপাসুতা। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের অভূতপূর্ব গণপ্রতিরোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদের শাহাদাতের পর আন্দোলন সারা দেশে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। এরপর যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া ও রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। তিনি স্মরণ করেন যে, ১১ জুলাই দলীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের পর তিনি আত্মগোপনে থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রদের এই ঐতিহাসিক আন্দোলনকে বিএনপির পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছিলেন।
Geopulse TV
