নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় উত্তেজনা কমানো এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বাড়াতে নতুন শান্তি চুক্তিতে সই করেছেন ৫০ জনের বেশি মুসলিম ও খ্রিস্টান নেতা। রাজধানী আবুজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। একই সঙ্গে দেশটির প্রধান দুই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে একটি নতুন সংগঠনেরও যাত্রা শুরু হয়েছে।
২০ কোটির বেশি জনসংখ্যার নাইজেরিয়ায় উত্তরের অঞ্চলগুলোতে প্রধানত মুসলিম এবং দক্ষিণাঞ্চলে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর আধিক্য রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে ধর্মীয় সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্সের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এসব হামলায় খ্রিস্টানরা আক্রান্ত হলেও বিশ্লেষকদের মতে, নিহতদের বড় অংশই মুসলিম।
নতুন শান্তি চুক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন ধর্মীয় নেতারা। তারা অন্য ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, অপমানজনক মন্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী ২০২৭ সালের নাইজেরিয়ার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই উদ্যোগের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। দেশটির রাজনীতিতে ধর্মীয় বিভাজন বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
নাইজেরিয়ার ধর্মীয় পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিতর্ক রয়েছে। গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটিতে খ্রিস্টানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে নাইজেরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন।
নতুন এই শান্তি উদ্যোগের মাধ্যমে নাইজেরিয়ার দুই প্রধান ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও সহাবস্থান আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
Geopulse TV
