কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা সংক্রমণ ক্রমেই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। সরকারি সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই ইবোলায় মৃতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেড়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত চলতি সংক্রমণে মোট ৩ হাজার ৪৪২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫২১ জনের। দ্রুত বাড়তে থাকা আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টার তুলনায় সংক্রমণের গতি অনেক বেশি বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কঙ্গো সরকার গত ১৫ মে এই ইবোলা সংক্রমণের কথা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করে। এবারের সংক্রমণের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও ভাইরাস। আগের বেশ কিছু ইবোলা সংক্রমণের তুলনায় এই প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ, এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনও অনুমোদিত কোনও টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
চলতি সংক্রমণে যে গতিতে মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তা আগের ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলির তুলনায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমনকি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ভয়াবহ ইবোলা মহামারির সঙ্গেও এর তুলনা করা হচ্ছে। ওই মহামারিতে অন্তত ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। সেটি এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সেই ঘটনায় ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হতে প্রায় আট মাস সময় লেগেছিল। বর্তমান কঙ্গোতে সেই সংখ্যায় পৌঁছতে সময় লেগেছে অনেক কম।
ইবোলা একটি বিরল, কিন্তু অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের সংক্রামিত তরল যেমন রক্ত, বমি বা বীর্যের সংস্পর্শে এলে এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংক্রমণের পর অসুস্থতা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রাণঘাতী হয়।
কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে দ্রুত বাড়তে থাকা সংক্রমণ এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের চিকিৎসার পাশাপাশি সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের শনাক্ত করা এবং সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানোই এখন প্রধান লক্ষ্য। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ায় কঙ্গোয় ইবোলা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।
Geopulse TV
