আমেরিকায় ফের তিন বছর পর সুদের হার বাড়াল ফেডারেল রিজার্ভ

আমেরিকায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ফের সুদের হার বাড়াল ফেডারেল রিজার্ভ। ২০২৩ সালের পর প্রথমবার বেঞ্চমার্ক সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর ফলে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাড়তে পারে। মূল্যবৃদ্ধি এখনও ফেডের লক্ষ্যমাত্রার উপরে থাকায় সুদের হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

ফেডারেল রিজার্ভ ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়িয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মূল সুদের হার বেড়ে প্রায় ৩.৯ শতাংশ হয়েছে। ত্রৈমাসিক আর্থিক পূর্বাভাসে চলতি বছরে আরও একবার সুদের হার বাড়িয়ে তা ৪.১ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সময়ের সঙ্গে আমেরিকার মানুষের ঋণের খরচে পড়তে পারে। তবে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এমন সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন আমেরিকার মানুষ ইতিমধ্যেই মুদিখানার জিনিস, পেট্রোল এবং বাড়ির খরচের চাপে রয়েছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ এবং জিনিসপত্রের দাম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ সাংবাদিক বৈঠকে জানান, জুলাইয়ের শেষ দিকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার পর থেকে আমেরিকার অর্থনীতিতে গতি বাড়ার লক্ষণ দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে মূল্যবৃদ্ধি এখনও ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার উপরে রয়েছে। তা কমার স্পষ্ট লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

ফেডের পছন্দের মূল্যবৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ৩.৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ২.৩ শতাংশ। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ এখনও যথেষ্ট বেশি রয়েছে। এদিকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ফের সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিও সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্শ। তাঁর বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরে ফেডের লক্ষ্যমাত্রার উপরে থাকায় বিষয়টি উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ নামক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন যে, আমেরিকায় সুদের হার ১ শতাংশ বা তারও কম হওয়া উচিত এবং দেশের মানুষের জন্য আরও সস্তা ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ট্রাম্প সুদের হার কমানোর দাবির সঙ্গে দেশের বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টিও যুক্ত করেছেন। তাঁর দাবি, বাণিজ্য ঘাটতি থাকা দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করলে আমেরিকা বছরে ন্যূনতম ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে।

About Desk 3

Check Also

অর্থনীতিতে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামা সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন দুই আমেরিকান অর্থনীতিবিদ। ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *