তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ দমন অভিযানে গ্রেফতার সাংবাদিকরাও

পরিবার ও শিশুদের সুরক্ষার কথা বলে তুরস্কে এলজিবিটিকিউ+ কর্মী, অধিকারকর্মী এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু হয়েছে। রবিবার ভোর থেকে ইস্তানবুল, রাজধানী আঙ্কারা, ইজমির-সহ একাধিক শহরে এলজিবিটিকিউ+ অধিকার সংগঠন ও এইচআইভি সচেতনতা নিয়ে কাজ করা সংস্থার দফতরে একযোগে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এই অভিযানের প্রতিবাদে পথে নামেন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের উপর টিয়ার গ্যাস ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এখনও পর্যন্ত ১৫০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেক জানিয়েছেন, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামে এই অভিযান চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, শিশু, পরিবারের প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা করতেই এই পদক্ষেপ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলি এই যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রবিবার ভোরে ইস্তানবুল, আঙ্কারা, ইজমির ছাড়াও আইদিন ও মেরসিন শহরে এলজিবিটিকিউ+ অধিকার সংগঠন এবং এইচআইভি সচেতনতা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলিতে তল্লাশি চালানো হয়। তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত ভিডিয়োয় পুলিশকে দফতরে নথিপত্র খুঁজতে, রামধনু পতাকা সরিয়ে নিতে এবং কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যেতে দেখা যায়। নাইটক্লাব এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ইস্তানবুলের সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, অভিযানে ডিজিটাল সরঞ্জাম, মাদক এবং একটি আগ্নেয়াস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির হিসাব অনুযায়ী, ১০০ জনের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৬২ জনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই গ্রেফতার অভিযানের আওতায় সাংবাদিকরাও রয়েছেন। তুরস্কের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা সংগঠন মিডিয়া অ্যান্ড ল স্টাডিজ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, এলজিবিটিকিউ+ অধিকার সংগঠন কাওস জি-এলের পরিচালন পর্ষদের সাত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিক তুগবা তেকেরেককে ইস্তানবুলের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে আঙ্কারায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ জর্জিয়ার এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায় নিয়ে কাওস জি-এলের সঙ্গে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানা গিয়েছে।

অভিযানের প্রতিবাদে ইজমিরে কয়েকশো মানুষ বিক্ষোভ দেখান। সেখানে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ছোড়ে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ইস্তানবুলে অন্তত ১৫০ জন বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। আঙ্কারাতেও বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে।তুরস্কে সমকামিতা আইনত অপরাধ নয়। তবে এলজিবিটিকিউ+ সংগঠনগুলির বিরুদ্ধে ‘অশ্লীলতা’ এবং বেসরকারি সংগঠন সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর এমা সিনক্লেয়ার-ওয়েব এই অভিযানকে সাম্প্রতিক বছরগুলির মধ্যে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গ্রেফতার অভিযান বলে উল্লেখ করেছেন।

About Desk 3

Check Also

আমিরশাহি সফরে এস জয়শঙ্কর, বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা

ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আমিরশাহি সফরে যাচ্ছেন ভারতের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *