রাশিয়ার তেল কিনলেই ১০০% শুল্ক? ভারত ও চিনকে নিয়ে ট্রাম্পের বড় চাল

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার উপর আরও চাপ বাড়াতে চাইছে আমেরিকা। সেই লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছে নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল। বিলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। ফলে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলির উপরও সম্ভাব্য শুল্কের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এখনও কোনও নির্দিষ্ট শুল্ক কার্যকর হয়নি।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে বুধবার ২৬২-১৫৯ ভোটে বিলটি পাস হয়। গত মাসে মার্কিন সেনেটেও ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি বিলে স্বাক্ষর করবেন। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্যান্য শীর্ষ আধিকারিকদের আনার কথা বলা হয়েছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর তেলবাহী জাহাজগুলিকেও নিশানা করা হবে। বিলটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের বড় ক্রেতা দেশগুলির উপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় সম্ভাব্য ভাবে ভারত ও চিনের নামও রয়েছে। অর্থাৎ, রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলির উপর আমেরিকা অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক চাপাতে পারে। এর লক্ষ্য রাশিয়ার জ্বালানি রফতানি থেকে আয় কমানো এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থ জোগানে চাপ তৈরি করা। তবে ভারত ও চিনের উপর নির্দিষ্ট কোনও শুল্ক এখনই কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য নেই। কোন দেশ বা সংস্থার উপর শুল্ক বসবে, তা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

বিলটি নিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ইউক্রেনকে সমর্থন করলেও অনেক ডেমোক্র্যাট ট্রাম্পকে বাণিজ্যিক শুল্ক বসানোর আরও ক্ষমতা দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস বিলটিকে ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, বিলের খসড়ায় ট্রাম্পের নতুন আমদানি কর বসানোর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধ পঞ্চম বছরে প্রবেশ করেছে। এখনও কোনও শান্তিচুক্তি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার উপর আরও কড়া অর্থনৈতিক চাপ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিলের সমর্থকরা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই মার্কিন কংগ্রেসকে নিষেধাজ্ঞার বিল পাস করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনতে আরও চাপ তৈরি করা দরকার। বিলে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করা বিদেশি সংস্থা এবং ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার কথাও রয়েছে। ফলে এই আইন কার্যকর হলে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলির উপরও তার প্রভাব পড়তে পারে।

About Desk 3

Check Also

অর্থনীতিতে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামা সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন দুই আমেরিকান অর্থনীতিবিদ। ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *