ত্রিপোলি: পশ্চিম লিবিয়ার প্রধান একটি তেল পরিশোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনায় ধারাবাহিক ড্রোন হামলার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে জাতীয় অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিচালিত এক “বিশাল নাশকতা ও ষড়যন্ত্রের” অংশ বলে উল্লেখ করেছে।
গ্রেফতারকৃতদের একটি বড় ‘নাশকতাকারী সেল’-এর সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল বলে দাবি করেছে প্রশাসন। আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশী নাগরিক থাকলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়নি।
জাবিয়া তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা: লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ন্যাশনাল অয়েল কর্পোরেশন (NOC) জানিয়েছে, গত আগস্ট মাসে ত্রিপোলির কাছে অবস্থিত অন্যতম বড় জ্বালানি কমপ্লেক্স ‘জাবিয়া’ (Zawiya)-তে ড্রোন হামলায় একটি বিশালাকার পেট্রোল রিজার্ভারে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। দৈনিক ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল শোধন ক্ষমতাসম্পন্ন এই জাবিয়া শোধনাগারটি লিবিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল শোধনাগার।
ওই হামলার পর জাবিয়া কমপ্লেক্সে আরও একাধিক ড্রোন হামলা চালানো হয়। তবে গত বৃহস্পতিবার ত্রিপোলির কাছে একটি জ্বালানি ট্যাংকে হতে যাওয়া আরেকটি হামলা নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানায় NOC।
লিবিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা: ২০১১ সালে সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই আফ্রিকা মহাদেশের সবচেয়ে বড় তেল সম্পদের দেশ লিবিয়া ক্রমাগত সহিংসতা ও চরম রাজনৈতিক অস্থিরতায় জর্জরিত। বর্তমানে দেশটিতে দুটি পৃথক সরকার ক্ষমতা দখলে রয়েছে—পশ্চিমাঞ্চলের ত্রিপোলিতে জাতিসংঘ স্বীকৃত প্রধানমন্ত্রী আব্দুল হামিদ দ্বিবেবার (Abdulhamid Dbeibah) নেতৃত্বাধীন সরকার এবং পূর্বাঞ্চলে সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বী সরকার।
Geopulse TV
