নাইজেরিয়ায় ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা। আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারির নির্বাচন ঘিরে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবুর অর্থনৈতিক সংস্কার।
আফ্রিকার সবচেয়ে জনবহুল দেশটি দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। তবে বিভক্ত বিরোধী দল টিনুবুর দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাকে শক্তিশালী করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় আসার পর টিনুবু জ্বালানি ভর্তুকি বাতিলসহ বেশ কিছু বড় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করেন। অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারীদের অনেকে এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। নাইরার মূল্য কমে যায় এবং মূল্যস্ফীতি একপর্যায়ে ৩৪ শতাংশে পৌঁছায়। যদিও জুলাইয়ে দেশটির মূল্যস্ফীতি কমে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, নাইজেরিয়ার ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। ২০১৯ সালে এই হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ।
অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি নিরাপত্তাও নির্বাচনের অন্যতম বড় ইস্যু। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি হামলা, অপহরণ, সশস্ত্র ডাকাতি, কৃষক ও পশুপালকদের সংঘাত এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের পর থেকে সহিংসতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ACLED।
২০২৭ সালের নির্বাচন অনেকটা ২০২৩ সালের নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট টিনুবুর পাশাপাশি আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন সাবেক গভর্নর পিটার ওবি ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আতিকা আবুবকর। ২০২৩ সালের নির্বাচনে টিনুবু ৩৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। আবুবকর পান ২৯ শতাংশ এবং ওবি পান ২৫ শতাংশ ভোট।
এবার পিটার ওবির সঙ্গে জোট করেছেন রাবিউ কোয়ানকোয়াসো, যিনি ২০২৩ সালের নির্বাচনে প্রায় ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন। তিনি ওবির রানিং মেট হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট টিনুবুর দল All Progressives Congress জাতীয় সংসদ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং দেশটির ৩৬টি গভর্নরশিপের মধ্যে ৩১টিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে সাংগঠনিক দিক থেকেও টিনুবু শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।
তবে সাধারণ মানুষের ভোটদানের আগ্রহ নিয়ে রয়েছে বড় প্রশ্ন। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল মাত্র ২৭ শতাংশ। রাজধানী আবুজার এক নারী বিক্রেতা জানিয়েছেন, নিরাপত্তাহীনতা, যাতায়াত ব্যয় বৃদ্ধি এবং ভোট কেনাবেচার আশঙ্কায় তিনি এবার নিজের এলাকায় ভোট দিতে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে চান না।
সব মিলিয়ে ২০২৭ সালের নির্বাচনে টিনুবুর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি। তবে বিভক্ত বিরোধী দল ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান টিনুবুকে দ্বিতীয় মেয়াদে জয় পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রাখছে।
Geopulse TV
