ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী ৮ জুলাই ইন্দোনেশিয়ার যোগ্যাকার্তার ঐতিহাসিক প্রামবানান মন্দির পরিদর্শন করবেন। এই সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট। মোদীর সরকারি সফরের অংশ হিসেবেই এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি নির্ধারিত হয়েছে।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেই এই সফরকে দেখা হচ্ছে।
নবম শতকে নির্মিত প্রামবানান ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম হিন্দু মন্দির কমপ্লেক্স। একসময় এখানে মোট ২৪০টি বড় ও ছোট মন্দির ছিল, যা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে উৎসর্গ করা। স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকেও এটি ভারতের বাইরে ভারতীয় প্রভাবের অন্যতম সেরা নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
মন্দিরের পাথরের খোদাইয়ে রামায়ণের বিভিন্ন কাহিনি ফুটে উঠেছে, যা প্রমাণ করে কীভাবে ভারতীয় মহাকাব্য সমুদ্র পেরিয়ে জাভানিজ সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। আজও ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় ‘রামায়ণ ব্যালে’-র মাধ্যমে এই ঐতিহ্য জীবন্ত রয়েছে।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত এবং প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে মন্দির কমপ্লেক্সের অনেক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দীর্ঘদিনের সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্পের ফলে এখন তার অনেকটাই পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে প্রামবানান ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃত।
ভারত ও ইন্দোনেশিয়া এখন এই ঐতিহ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে যৌথভাবে কাজ করছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই) ইন্দোনেশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে প্রামবানান কমপ্লেক্সের একাধিক ছোট মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে অংশ নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মোদীর এই সফর শুধুমাত্র কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কের এক অনন্য উদযাপন। হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা প্রামবানান আজও ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে এক অটুট সেতুবন্ধনের প্রতীক হয়ে রয়েছে।
Geopulse TV
