বন্দর নিরাপত্তায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বার্তা সোনোয়ালের, সাইবার হামলা ও ড্রোন হানার মোকাবিলায় জোর

দেশের বন্দরগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত দ্বিতীয় জাতীয় বন্দর নিরাপত্তা সম্মেলন ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কোনও বন্দরের সাফল্য শুধু পণ্য ওঠানামার পরিমাণ বা কাজের গতি দিয়ে বিচার করা যায় না। পরিবর্তিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বন্দর কতটা প্রস্তুত, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

সোনোয়াল বলেন, ভারতের বন্দর নেটওয়ার্ক দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে দেশের ভূমিকা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বন্দরগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থা হতে হবে আরও শক্তিশালী, সমন্বিত এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। সাইবার হামলা ও ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি সামুদ্রিক ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। তাঁর মতে, দেশের দীর্ঘমেয়াদি সামুদ্রিক লক্ষ্য পূরণে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ বন্দর শক্তিশালী বাণিজ্য তৈরি করে, শক্তিশালী বাণিজ্য দেশের অর্থনীতিকে মজবুত করে এবং শক্তিশালী অর্থনীতি একটি শক্তিশালী দেশ গড়ে তোলে। বর্তমানে সাইবার হামলা, ড্রোনের অনুপ্রবেশ, পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় দুর্বলতা এবং ডিজিটাল পরিকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কা সামুদ্রিক নিরাপত্তাকে জাতীয় কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত করেছে।

সোনোয়াল ই-সমুদ্র, মেরিটাইম সিঙ্গল উইন্ডো এবং ওয়ান নেশন ওয়ান পোর্ট প্রসেস-এর মতো ডিজিটাল উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, স্মার্ট বন্দর তৈরির সঙ্গে সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি মোকাবিলার ব্যবস্থাকেও সমান ভাবে শক্তিশালী করতে হবে।

সম্মেলনে প্রায় ১৪০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। কেন্দ্রীয় বন্দর মন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি ভারতীয় নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, রাজ্য সামুদ্রিক পর্ষদ, বড় ও ছোট বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং শিল্পক্ষেত্রের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ভারতের সামুদ্রিক ক্ষেত্রে নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

About Desk 3

Check Also

গোয়া দখল করতে কেন ১৪ বছর লাগলো ভারতের ?

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভ করলেও, দেশের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত গোয়া তখনও …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *