বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, একাধিক আইনি মামলা, মৃত্যুদণ্ডের রায় এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি চলতি বছরের শেষের আগেই দেশে ফিরবেন। তার এই মন্তব্য দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে অন্যতম বৃহৎ দলকে বাদ দেওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান প্রশাসন বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসর থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আওয়ামী লীগ তাদের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে—যদিও দেশজুড়ে দলের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি রয়েছে।
শেখ হাসিনা আরও অভিযোগ করেন, তার অপসারণের পর দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। পাশাপাশি উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতাও বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি সতর্ক করেন যে, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে সরে যাচ্ছে।
নিজের সরকারের আমলের অর্থনৈতিক সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, বিদ্যুৎ পরিষেবার সম্প্রসারণ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে গোপন সমঝোতার জল্পনাও উড়িয়ে দেন শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণভাবে দেশের সাধারণ মানুষের সমর্থনের ওপর নির্ভর করবে।
Geopulse TV
