আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআরসি) ইবোলা মহামারি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। মহামারি ঘোষণার এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সংস্থা।
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (Africa CDC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা ভাইরাসে এখন পর্যন্ত ২০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৮৭৫। অর্থাৎ, আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ২৩ শতাংশ।
আফ্রিকা সিডিসির চিকিৎসক ওয়েসাম মানকৌলা জানিয়েছেন, বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের খোঁজ বা কন্ট্যাক্ট ট্রেসিং কার্যক্রম। তিনি বলেন, “আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের অবস্থা।”
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত সমস্যা এবং কিছু এলাকায় আফ্রিকা সিডিসি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থার কর্মীদের পৌঁছানোর সীমাবদ্ধতার কারণে কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের কাজ এখনও প্রত্যাশিত মাত্রায় হচ্ছে না।
ডিআরসিতে গত ১৫ মে এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস সংস্থা সতর্ক করেছে, এই সংক্রমণ এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মধ্য আফ্রিকার বিশাল এই দেশটিতে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। তবে এবারের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বর্তমানে যে বান্দিবুগিও (Bundibugyo) ধরনের ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে, তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।
ডিআরসির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তিনটি প্রদেশ—ইতুরি, নর্থ কিভু এবং সাউথ কিভু—এই সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা এবং ব্যাপক মানুষের বাস্তুচ্যুতি এসব এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ আরও কঠিন করে তুলেছে।
ইতিমধ্যেই এই ইবোলা সংক্রমণ পার্শ্ববর্তী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে সেখানে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ কার্যকর রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উগান্ডায় এখন পর্যন্ত ১৯টি নিশ্চিত সংক্রমণের ঘটনা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই কঙ্গো থেকে যাওয়া মানুষ।
Geopulse TV
