ইরান ও আমেরিকার মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য সুইজারল্যান্ড যাওয়ার কথা থাকলেও সেই সফর বাতিল করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ভ্যান্স শুক্রবার সুইজারল্যান্ড যাচ্ছেন না।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, “এই আলোচনার প্রস্তুতি কখনও সহজ বা পূর্বানুমানযোগ্য ছিল না। এই মুহূর্তে ভাইস প্রেসিডেন্ট আজ রাতে রওনা হচ্ছেন না।” তবে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচনা শুরু করতে তারা আগ্রহী।
এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জানিয়েছিলেন, কিছু আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি শান্তি চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরের পর এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে বৃহত্তর ইস্যু, বিশেষ করে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা তৈরি করেছে।
মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর “ভিন্ন মত” থাকলেও ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে আমেরিকার সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হলেও এর অর্থ হবে না যে ইরান ওয়াশিংটনের অবস্থান মেনে নিচ্ছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও সতর্ক করেছেন, চুক্তি লঙ্ঘন বা অন্য পক্ষের অতিরিক্ত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে ইরান “দৃঢ় জবাব” দেবে।
এদিকে, চুক্তির পরও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত। বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান যদি এই মজুত পুরোপুরি কমানো বা ধ্বংস করতে রাজি না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের সামনে সীমিত বিকল্প থাকবে।
চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলির ওপর নৌ অবরোধ তুলে নিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কিছু তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে এবং চূড়ান্ত পরমাণু সমঝোতা হলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের আঞ্চলিক পুনর্গঠন তহবিলে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে মূল পরমাণু ইস্যুগুলির এখনও সমাধান হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারেও চাপ তৈরি করেছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মজুত কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে। ফলে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও জানিয়েছেন, আরও কয়েক সপ্তাহ বোমা হামলা চালালেও তার ফল অনিশ্চিত হতে পারে এবং এতে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তেলের সরবরাহে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, শান্তি চুক্তি হলেও ইরান-আমেরিকা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। ট্রাম্প ঐতিহাসিক সমঝোতা চান, কিন্তু সমালোচকদের মতে, তাড়াহুড়ো করে চুক্তি করলে ইরান তার পরমাণু সক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ পেতে পারে।
Geopulse TV
