মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে এক মার্কিন কূটনীতিক হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক থাই নারী বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। মামলার সঙ্গে পরিচিত দুই আইনজীবীর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আইনজীবীদের একজন জানিয়েছেন, ওই নারীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি মিয়ানমারের অভিবাসন আইনের একটি ধারাতেও তাঁকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা দেশটিতে কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধ করলে প্রযোজ্য হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযুক্ত নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
কামায়ুত টাউনশিপ আদালতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কি না বা তাঁর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর ১০ বছরের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
দুই আইনজীবীই মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তথ্য দিয়েছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ মে ইয়াঙ্গুনের **সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেল** থেকে ওই মার্কিন কূটনীতিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং বিদেশি নাগরিকদের কাছে জনপ্রিয় এই হোটেলটি মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। নিহত কূটনীতিকের মাথা ও ঘাড়ে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর কূটনীতিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করলেও তাঁর পরিচয়সহ অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী Aung San Suu Kyi-এর সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। এর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ সাধারণত সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে খুব কম কথা বলে। এই মামলার তদন্তকারী পুলিশ, অভিযুক্তকে রাখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এমন কারাগার কর্তৃপক্ষ এবং আদালত—তিন পক্ষই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এশিয়া-প্যাসিফিক মিডিয়া হাবকে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বিষয়টি মিয়ানমারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে পাঠিয়ে দেয়। দূতাবাসও আগের সংক্ষিপ্ত বিবৃতির পুনরাবৃত্তি করে এবং বাকি প্রশ্নের উত্তর মিয়ানমারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে বলে।
অন্যদিকে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হেফাজতে থাকা ওই থাই নাগরিককে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে আদালতের শুনানিতে তাঁকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে আরও জানতে মিয়ানমারে থাই দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হলেও দূতাবাস মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
Geopulse TV
