পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে বিক্ষোভে অচলাবস্থা, সেনা অভিযানে শতাধিক গ্রেপ্তারের অভিযোগ

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সোমবার ব্যাপক লংমার্চ ও অঞ্চলজুড়ে হরতালের কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (এএসি)-এর নেতৃত্বে আয়োজিত এই আন্দোলনে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আরোপিত “অবরোধ” ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নামে হাজারো মানুষ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাওয়ালাকোটসহ পিওকের বিভিন্ন এলাকায় গত ছয় দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা পরিস্থিতিকে “কারবালার মতো” বলে বর্ণনা করেছেন এবং পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর দমন-পীড়ন বাড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন।

মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভুয়া এফআইআর এবং ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, চলমান ছয় দিনের সামরিক অভিযানে ৪৫০ জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং একাধিক কর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পালান্দারিতে নিরাপত্তা বাহিনী নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে মাকবুল বাট শহীদ চৌক এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাধারণ মানুষের মর্যাদা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করছে।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশে বসবাসরত কাশ্মীরি প্রবাসীরা পাকিস্তানের তথাকথিত “হাইব্রিড শাসনব্যবস্থার” বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। কয়েকজন কাশ্মীরি অধিকারকর্মী বর্তমান সামরিক অভিযানের সঙ্গে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের ঘটনাবলির তুলনাও টেনেছেন।

মাঠপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা জেনারেল আসিম মুনির এবং পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের কাছে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগ ও কঠোর দমননীতির ব্যাখ্যা দাবি করছেন।

জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর অন্যতম নেতা সরদার আমান বলেছেন, “বিধানসভা আমাদের পায়ের নিচে থাকবে।” তিনি শান্তিপূর্ণ কিন্তু ব্যাপক গণসমাবেশের মাধ্যমে আন্দোলনের চাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

এদিকে, পিওকের মানবাধিকার পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আটক ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের ভাগ্য এবং চলমান দমন-পীড়নের ব্যাপ্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

About Desk 1

Check Also

মার্কিন কূটনীতিক খুনে অভিযুক্ত থাই নারী, মিয়ানমারের আদালতে হাজিরা; দোষী সাব্যস্ত হলে মৃত্যুদণ্ডের আশঙ্কা

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে এক মার্কিন কূটনীতিক হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত এক থাই নারী বৃহস্পতিবার আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *