মিন অং হ্লাইংকে ভারতের আমন্ত্রণ ‘ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ’: কালাদান প্রকল্প নিয়ে দিল্লিকে বার্তা আরাকান আর্মির

আরাকান আর্মির মুখপত্রে প্রকাশিত এক মন্তব্যে মিয়ানমারের জান্তা প্রধান Min Aung Hlaing-কে ভারতের আমন্ত্রণকে “ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। মন্তব্যে বলা হয়, ৩০ মে থেকে পাঁচ দিনের সফরে ভারত সফর করছেন মিন অং হ্লাইং। ভারত মিয়ানমারের প্রতিবেশী একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলেও দেশটির রাজনীতি ও কৌশলগত বাস্তবতায় চীনের প্রভাব আরও বেশি।

মন্তব্যে দাবি করা হয়, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে ভারতের নিরাপত্তা, কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এই সফর একটি বিভ্রান্তিকর বার্তা দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।

আরাকান আর্মির মতে, ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো Kaladan Multi-Modal Transit Transport Project। বঙ্গোপসাগর ও আরাকান অঞ্চলের মাধ্যমে ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মন্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘ পাঁচ বছরের সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার পর ২০১৫-২০২৬ সময়কালের “অজনপ্রিয় নির্বাচন”-এর পর জান্তা প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো প্রথম বিদেশি দেশ হলো ভারত।

আরাকান আর্মি দিল্লির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, শুধু আমন্ত্রণ জানানো নয়, বরং প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ বন্ধে জান্তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। এসব এলাকার মধ্যে Paletwa, Kyauktaw, Ponnagyun, Pauktaw এবং Sittwe টাউনশিপের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্যে আরও দাবি করা হয়, প্রকল্পের কার্যক্রম ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরাকান আর্মি বাস্তব ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করেছে। তবে বর্তমানে সিত্তে এলাকায় আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনী উভয় পক্ষই শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং সেখানে তীব্র সংঘাত চলছে। এই পরিস্থিতি দেখায় যে, ভারতের আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষায় জান্তা সরকারকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তাদাতা হিসেবে বিবেচনা করা বাস্তবসম্মত নয়।

এ ছাড়া কালাদান প্রকল্প-সংলগ্ন এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মন্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

আরাকান আর্মির বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও চীন উভয় দেশই মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। তবে তাদের দাবি, বর্তমান জান্তা সরকার সেই স্থিতিশীলতার পথে বাধা হয়ে রয়েছে। তাই প্রকল্প এলাকায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হওয়া উচিত।

About Desk 1

Check Also

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০, নিখোঁজ ১ হাজার ৩০০-এর বেশি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এখনো ১ হাজার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *