জর্ডান ও ইরাকে ইরানি হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো মার্কিন সেনাকে হত্যা করা হলে ইরানকে তার বহু গুণ বেশি মূল্য মেটাতে হবে। ট্রাম্পের এই কড়া হুমকির পরপরই হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালাবার ইরানি সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন দফায় বিমান ও মিসাইল হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং স্থাপনাগুলোতে ৩ দফায় ড্রোন ও দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। আইআরজিসি-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়, তাদের প্রথম দফার হামলায় বাহরাইনের আল-সাখির বিমান ঘাঁটিতে মার্কিন ড্রোনের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়েছে, দ্বিতীয় দফায় সালমান বন্দরে টাস্কফোর্স ৫৯-এর মার্কিন নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তৃতীয় দফার হামলায় কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে মার্কিন বিশেষ নৌ-কমান্ডোদের প্রধান কেন্দ্র আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসি-র এই ব্যাপক হামলার পর বাহরাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইরানি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে বেসামরিক নাগরিকদের জীবনের জন্য প্রত্যক্ষ হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে কুয়েত অভিযোগ করেছে যে, তাদের বেসামরিক বিমান চলাচল ব্যবস্থার ওপর ড্রোন হামলা চালানো হলেও ফ্লাইট পরিষেবা অক্ষত রাখা সম্ভব হয়েছে। হরমোজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই পাল্টা-পাল্টি হামলা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে এক চরম সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
Geopulse TV
