রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ফের হামলা চালাবে ইউক্রেন, ঘোষণা জেলেনস্কির

রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে ফের নিশানা করার ইঙ্গিত দিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে আবারও হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আমেরিকার গোয়েন্দা সহায়তা এবং রাশিয়ার সঙ্গে ওয়াশিংটনের জ্বালানি চুক্তি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে জ্বালানি পরিকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যেই আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে জেলেনস্কির এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

যুদ্ধের শুরু থেকেই রাশিয়ার সামরিক ও জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বিশেষ করে তেল শোধনাগার, জ্বালানি সংরক্ষণ কেন্দ্র এবং তেল সরবরাহ ব্যবস্থাকে নিশানা করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের লক্ষ্য, রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করা। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি এবং যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতার উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করে কিয়েভ। এবার সেই হামলা আবারও শুরু করার কথা জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তাঁর এই ঘোষণায় স্পষ্ট, রাশিয়ার জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছে ইউক্রেন। যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, রাশিয়ার জ্বালানি ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল থেকে সরে আসতে রাজি নয় কিয়েভ।

তবে জেলেনস্কির বক্তব্যে শুধু রাশিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি উঠে আসেনি। আমেরিকার ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বিশেষ করে ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। যুদ্ধের সময় শত্রুপক্ষের সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া ইউক্রেনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই ক্ষেত্রে আমেরিকার সহযোগিতা নিয়ে কিয়েভের প্রত্যাশা রয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার জ্বালানি চুক্তি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই ধরনের চুক্তি নিয়ে কিয়েভের অসন্তোষ নতুন করে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তুলছে। ইউক্রেনের আশঙ্কা, রাশিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংক্রান্ত সহযোগিতা বজায় থাকলে যুদ্ধের পরিস্থিতিতে মস্কো সুবিধা পেতে পারে।

এদিকে, রাশিয়া ও আমেরিকার সম্পর্কের সমীকরণও আন্তর্জাতিক মহলের নজরে রয়েছে। একদিকে ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি রয়েছে, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সংক্রান্ত যোগাযোগের বিষয়টিও সামনে আসছে। ফলে ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে কিয়েভের অসন্তোষ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সব মিলিয়ে, রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ফের হামলার ঘোষণা এবং আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে জেলেনস্কির অসন্তোষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমর্থন ও কূটনৈতিক সম্পর্কও এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে ইউক্রেনের হামলার কৌশল এবং আমেরিকার অবস্থান কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।

About Desk 3

Check Also

যুদ্ধবিরতির কথা বলেও হামলা বন্ধ করছে না রাশিয়া, অভিযোগ জেলেনস্কির

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলা যুদ্ধ থামার কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে না। বরং ইউক্রেনের জ্বালানি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *