মোকাাডিসু: সোমালিয়া ও ইয়েমেন উপকূলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে আবারও নতুন করে দস্যুতার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আঞ্চলিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাই করেছে সোমালি জলদস্যুরা।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে সোমালিয়ার পুন্টল্যান্ড উপকূলের কাছে, যেখানে ক্যামেরুনের পতাকাযুক্ত ‘এম/ভি লুতুফ’ (M/V LUTUF) নামের একটি জাহাজ দখল করে নেয় দস্যুরা। অন্য ঘটনাটিতে ইয়েমেন উপকূলে ইরিত্রিয়ার পতাকাযুক্ত ‘সিবু ১’ (SIBU 1) নামের একটি ট্যাঙ্কার ছিনতাই করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘এম/ভি লুতুফ’ জাহাজটি মোগাদিসুর একটি সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটির জন্য তুর্কি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বহন করছিল। জাহাজটিতে থাকা ১০ জন ক্রুর মধ্যে ৬ জন ভারতীয়, ১ জন তুর্কি, ১ জন জর্জিয়ান এবং ২ জন সার্বিয়ান নিরাপত্তা রক্ষী ছিলেন। আটজন সশস্ত্র দস্যু জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পুন্টল্যান্ডের দাঙ্গোরোইয়ো জেলার গারমালের কাছে নুগাল উপকূলের দিকে নিয়ে যায়।
ছয়টি জাহাজ ও শতাধিক ক্রু জিম্মি: সোমালি কর্তৃপক্ষের মতে, এই সপ্তাহে ছিনতাই হওয়া দুটি জাহাজসহ বর্তমানে মোট ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ জলদস্যুদের দখলে রয়েছে। এসব জাহাজে শতাধিক ক্রুকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই সোমালি পানি সীমা ও এডেন উপসাগরে ১৭টিরও বেশি জলদস্যুতার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং পাঁচটি ট্রলার (Dhow) ছিনতাইয়ের ঘটনা রয়েছে।
পুনরুত্থানের কারণ ও অতীত ইতিহাস: সামরিক বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকান শৃঙ্গের আঞ্চলিক সংঘাত, স্থানীয় জেলেদের চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক নৌ-নিরাপত্তা কমে যাওয়ার কারণেই জলদস্যুরা পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে।
এর আগে ২০১০ সালের দিকে সোমালি জলদস্যুদের উপদ্রব চরম রূপ নিয়েছিল। সে সময় আন্তর্জাতিক জলসীমায় শত শত জাহাজ ছিনতাই হয়েছিল এবং বিশ্বজুড়ে শিপিং কোম্পানি ও বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলিয়ন ডলারের লোকসান গুনতে হয়েছিল।
Geopulse TV
