গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও থামছে না ইজরায়েলি হামলা। সোমবার দক্ষিণ গাজায় ফের হামলা চালায় ইজরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত দু’জন প্যালেস্তিনীয় নিহত হয়েছেন। এর আগের দিন রবিবার দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে ইজরায়েলি বিমান হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। ফলে দু’দিনে মোট পাঁচজন প্যালেস্তিনীয়ের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। নতুন করে এই হামলার ঘটনায় আমেরিকার মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবারের হামলা নিয়ে ইজরায়েলি সেনার বক্তব্য, ওই এলাকায় এক জঙ্গিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তবে কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ইজরায়েলি সেনা। অন্যদিকে, রবিবার খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় একটি তাঁবুতে বিমান হামলা চালানো হয়। স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের দাবি, ওই হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ইজরায়েলি সেনাও জানিয়েছে, ওই এলাকায় জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই অভিযান চালানো হয়েছিল। ইজরায়েলের দাবি, হামাস ফের সামরিক শক্তি বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই কারণেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বাড়িয়েছে ইজরায়েল। তবে হামাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, নতুন করে অস্ত্রভাণ্ডার তৈরি বা হামলার পরিকল্পনা করছে না তারা। বরং ইজরায়েলই গাজা শান্তি চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে হামাস।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আমেরিকার মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিনের সংঘর্ষ বন্ধ করা, গাজার পুনর্গঠন শুরু করা এবং ধীরে ধীরে ইজরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি হামাসের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিও চুক্তিতে রাখা হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এক বছর পেরিয়ে গেলেও তার গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলি বাস্তবায়নে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি। গাজার পুনর্গঠনের কাজও এখনও অনেকটাই বাকি। গাজার স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইজরায়েলি হামলায় অন্তত ১,৪০০ প্যালেস্তিনীয়ের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, একই সময়ে গাজায় হামাসের যোদ্ধাদের হাতে চারজন ইজরায়েলি সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইজরায়েল। ফলে যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। সব মিলিয়ে, নতুন করে হামলা ও পাল্টা অভিযোগে গাজায় শান্তি ফেরানোর উদ্যোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলি কবে কার্যকর হবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কবে নিশ্চিত হবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।
Geopulse TV
