মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাত্র কয়েকদিন পরই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন দুই দিনের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরে। এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার ত্রিমুখী কৌশলগত প্রতিযোগিতার মধ্যেই পুতিন-শি বৈঠক বিশ্ব রাজনীতিতে বড় বার্তা দিচ্ছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে অনুষ্ঠিত এই সফরে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রায় ৪০টির বেশি সহযোগিতা চুক্তি এবং একটি যৌথ কৌশলগত ঘোষণা প্রস্তুত করা হয়েছে।
বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া-২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প। ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপীয় বাজারে রাশিয়ার অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ায়, মস্কো এখন চীনের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, চীনও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে।
পুতিন ও শি জিনপিং বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি ও সামরিক কৌশল নিয়েও সমালোচনা করেছেন। যৌথ বিবৃতিতে তারা “একক আধিপত্যবাদ” ও “বিশ্বকে বিভক্ত করার প্রচেষ্টা”র বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরপরই পুতিনের এই সফর চীনের কূটনৈতিক ভারসাম্য নীতিরও ইঙ্গিত বহন করছে। একদিকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, অন্যদিকে মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত জোট আরও শক্তিশালী করা—এই দুই লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে বেইজিং।
Geopulse TV
