নয়াদিল্লি: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তির বিপ্লব ঘটাতে এবার ময়দানে নামছে বেঙ্গালুরুভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ভেদা অ্যারোনটিক্স’ (Veda Aeronautics)। ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) যুদ্ধ সক্ষমতা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে তারা প্রস্তাব করেছে এক বিশেষ ড্রোন সিস্টেম—‘সুরশাস্ত্র এমকে-১’ (Sureshastra Mk1)। এটি মূলত একটি ‘সোয়ার্ম স্ট্রাইক’ বা ঝাঁক বেঁধে আক্রমণ করতে সক্ষম ড্রোন, যা কোনো যুদ্ধবিমান বা পরিবহন বিমান থেকে মাঝ আকাশেই নিক্ষেপ করা যাবে।
প্রযুক্তির চমক ও বিশেষত্ব
সুরশাস্ত্র এমকে-১-কে বলা হচ্ছে ‘ট্রান্সপোর্ট এয়ারক্রাফট লঞ্চড সোয়ার্ম ড্রোন’। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা ভারতের সি-১৩০জে (C-130J) বা এএন-৩২ (An-32)-এর মতো পরিবহন বিমান থেকে কার্গো প্যালিটের মাধ্যমে ছোড়া সম্ভব। একবার মুক্ত হওয়ার পর ড্রোনগুলো নিজেদের ডানা মেলে আকাশে ছড়িয়ে পড়বে এবং একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ঝাঁক (Swarm) তৈরি করবে। এই প্রযুক্তির ফলে কয়েক ডজন ড্রোন একসাথে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা রাডার স্টেশনে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে পারবে।
অপারেশনাল সুবিধা
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমানের ঝুঁকি না বাড়িয়েই শত্রুর দুর্গে ঢুকে পড়ার জন্য সুরশাস্ত্র এমকে-১ অত্যন্ত কার্যকর। এর ছোট আকার এবং রাডার ফাঁকি দেওয়ার সক্ষমতা একে অত্যন্ত শক্তিশালী মারণাস্ত্র করে তুলেছে। কোম্পানিটির দাবি, এই সিস্টেমটি কেবল আক্রমণ নয়, শত্রুপক্ষের ওপর নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের কাজেও ব্যবহার করা যাবে।
আত্মনির্ভর ভারত ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের আওতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রোন সিস্টেমটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর খরচ অনেক কমিয়ে দেবে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যুদ্ধে ড্রোনের যে গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে (যেমন ইউক্রেন বা মধ্যপ্রাচ্যে), সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের এই নিজস্ব উদ্ভাবন প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে একটি বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি সফলভাবে বিমানবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা কৌশল সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
Geopulse TV
