তাইওয়ান প্রণালীতে জাপানি রণতরী: বেইজিংয়ের তীব্র ক্ষোভ ও টোকিওকে কড়া হুঁশিয়ারি

তাইওয়ান প্রণালীতে জাপানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে এশিয়ার দুই শক্তিধর দেশ চীন ও জাপানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত বুধবার জাপানি নৌবাহিনীর একটি রণতরী তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রম করার পর বেইজিং একে একটি “উস্কানিমূলক পদক্ষেপ” হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। চীনের দাবি, জাপানের এই পদক্ষেপ তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট-
দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ান প্রণালীকে চীন তাদের অভ্যন্তরীণ জলসীমা হিসেবে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো, বিশেষ করে জাপান, একে আন্তর্জাতিক জলসীমা হিসেবে গণ্য করে এবং সেখানে ‘মুক্ত নৌচলাচলের’ পক্ষে সওয়াল করে। এবার জাপানি ডেস্ট্রয়ার জাহাজটি যখন এই সংবেদনশীল এলাকা দিয়ে যাত্রা করে, তখন থেকেই বেইজিংয়ের নজরদারি ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে।

চীনের প্রতিক্রিয়া-
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জাপান ইচ্ছাকৃতভাবে চীনের রেড লাইন অতিক্রম করার চেষ্টা করছে। আমরা জাপানি পক্ষকে এই ধরণের উস্কানি বন্ধ করার জন্য কড়া হুঁশিয়ারি দিচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA) পুরো সময়জুড়ে জাপানি জাহাজটির ওপর কড়া নজরদারি রেখেছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তারা প্রস্তুত। চীনের মতে, জাপানের এই আচরণ তাদের ঐতিহাসিক ‘শান্তিবাদী নীতি’র পরিপন্থী।

জাপানের অবস্থান ও আঞ্চলিক প্রভাব-
টোকিও অবশ্য এই ঘটনাকে একটি রুটিন কার্যক্রম হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। জাপানি কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই এই নৌচলাচল করা হয়েছে। তবে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য রুখতে জাপান এখন অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে সম্প্রতি জাপানের প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়টি বেইজিংকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

উত্তপ্ত এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল-
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক মহড়া এবং শক্তি প্রদর্শনের হিড়িক পড়েছে। বেইজিং মনে করে, জাপান আসলে ওয়াশিংটনের ইন্ধনেই এই ধরণের পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে চাপে রাখা যায়। অন্যদিকে, ফিলিপাইন ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো জাপানের এই সক্রিয়তাকে স্বাগত জানিয়েছে, যা কার্যত এই অঞ্চলে দুটি স্পষ্ট ব্লকের সৃষ্টি করছে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি জাপান ও চীনের মধ্যে এই ধরণের সামরিক রেষারেষি চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে সমুদ্রসীমায় যেকোনো ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝি বড় ধরণের সংঘাতের রূপ নিতে পারে।

About Geopulse TV

Check Also

রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা ভারতের: “সন্ত্রাসে মদতের পরিণতি ভোগ করতেই হবে”

রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (UNSC) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তীব্র কূটনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছে ভারত। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সীমান্তপারের সন্ত্রাসে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *