নুউক: পূর্ব গ্রিনল্যান্ডের উপকূল থেকে দ্রুত বরফ গলে যাওয়ার কারণে সেখানে দেখা মিলছে এক অভূতপূর্ব পরিবেশগত পরিবর্তন। গ্রীষ্মকালে বরফমুক্ত সমুদ্র পেয়ে সেখানে ভিড় জমাচ্ছে শত শত বিশালাকার তিমি, যার মধ্যে রয়েছে হাম্পব্যাক (Humpback), ফিন (Fin) এবং মিনকি (Minke) প্রজাতির তিমি।
বিজ্ঞানীদের কয়েক দশকের এক গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বরফ গলে যাওয়ার কারণে এই সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নতুন নতুন এলাকায় খাদ্য শিকারের অনন্য সুযোগ পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Frontiers in Marine Science-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষকরা বিষয়টিকে আর্কটিক অঞ্চলের এক বিশাল ‘ফিডিং ফ্রেঞ্জি’ (খাদ্য শিকারের তোড়জোড়) এবং সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের এক বড় ধরণের পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

পরিসংখ্যানের বিস্ময়কর পরিবর্তন: অতীতে এই অঞ্চলে এত তিমির উপস্থিতি ছিল প্রায় বিরল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে:
-
জাহাজভিত্তিক জরিপ: ২০০৬ সালের আগে এই অঞ্চলে একটিও হাম্পব্যাক তিমির দেখা পাওয়া যায়নি। ২০০৭ সালে সেখানে মাত্র ৭টি হাম্পব্যাক দেখা গেলেও, ২০২৪ সালের জরিপে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০টিতে।
-
বিশাল জনসংখ্যা: গবেষকদের মতে, ২০২৪ সালের গ্রীষ্মকালে আনুমানিক ৪,০০০টি হাম্পব্যাক,৬,০০০টি ফিন এবং ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০টি মিনকি তিমি গ্রিনল্যান্ড সাগরে বিচরণ করেছে।
-
খাদ্যের বিপুল ব্যবহার: অনুমান করা হচ্ছে, এই তিন প্রজাতির তিমি গ্রীষ্মের খাদ্য মৌসুমে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে প্রায় ৮ থেকে ১১ লাখ টন মাছ (বিশেষ করে ক্যাপেলিন) ও ক্রিল ভক্ষণ করছে।
বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর প্রভাব: Greenland Institute of Natural Resources-এর প্রধান গবেষক অধ্যাপক ম্যাডস পিটার হেইড-জর্গেনসেন জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের বরফ গলে যাওয়া ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য অঞ্চল থেকে ক্যাপেলিন মাছ গ্রিনল্যান্ডের দিকে চলে এসেছে। আর সেই খাদ্যের সন্ধানেই এসেছে এই তিমিগুলো।
তবে যেখানে এই বড় প্রজাতিগুলো পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে সুবিধা পাচ্ছে, অন্যদিকে নারহোয়াল (Narwhals) এবং বেলুগা (Belugas)-র মতো বরফ-নির্ভর স্থানীয় আর্কটিক প্রজাতিগুলো চরম বিপাকে পড়ছে। তারা এই নতুন তিমিগুলোর সঙ্গে বাসস্থান হারাচ্ছে এবং তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, কিছু প্রজাতির জন্য এই পরিবর্তন নতুন সুযোগ নিয়ে এলেও অন্যান্য অনেক সুপরিচিত স্থানীয় প্রাণীর জন্য তা অস্তিত্বের সংকট তৈরি করছে।
Geopulse TV
