জাম্বিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। গত ১৩ অগস্টের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট হাকাইন্দে হিচিলেমার দ্বিতীয় দফায় জয় ঘোষণার পর সেই ফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কথা জানিয়েছেন বিরোধী নেতা ব্রায়ান মুন্দুবিলে।
বুধবার এক বিবৃতিতে মুন্দুবিলে দাবি করেন, তাঁর নির্বাচনী প্রচার শিবির ভোটগ্রহণ, ভোটগণনা, ফলাফল পাঠানো এবং ফল ঘোষণার প্রক্রিয়ায় একাধিক গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতি নথিভুক্ত করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
গত সপ্তাহের ভোটগ্রহণ মোটের উপর শান্তিপূর্ণ থাকলেও বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁদের ভয় দেখানো এবং নানা ধরনের বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হয়েছে। আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কিছু উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
জাম্বিয়ার নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফল অনুযায়ী, হাকাইন্দে হিচিলেমা প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মুন্দুবিলে পেয়েছেন প্রায় ৩৮ শতাংশ ভোট। তবে ফল প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী শিবির তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ভোটের রাতেই বিরোধী শিবিরের কয়েক জন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এদিকে, ভোটের পরদিন নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিরোধী সাংসদ মুতোতওয়ে কাফওয়ায়া নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিরোধী নেতা মুন্দুবিলের বাড়িতে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
হিংসার খবর এবং ভোটকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগের জেরে কয়েক ঘণ্টার জন্য ভোটগণনাও বন্ধ রেখেছিল নির্বাচন কমিশন। কিছু ব্যালট পেপার চুরির অভিযোগও সামনে আসে।
বর্তমানে অজ্ঞাতপরিচয় হুমকির কারণে নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুন্দুবিলে। তিনি কোথায় রয়েছেন, তা প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক জাম্বিয়া সরকারকে নির্বিচারে গ্রেফতার বন্ধ করার পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের আইনি অধিকার ও যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
Geopulse TV
