Breaking News

‘ডিএনএ এক’—ভারতের আতিথেয়তায় মুগ্ধ আফগান মন্ত্রী, কৃষি আধুনিকায়নে জোর

আফগানিস্তানের কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মাওলাভি আতাউল্লাহ ওমারি ভারতের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং আফগানিস্তানের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডিসিসিআই আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া-আফগানিস্তান ট্রেড অপারচুনিটিজ ইন্ডাস্ট্রি ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান আফগান প্রশাসন দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে একীভূত করতে কাজ করছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা খুঁজছে।

তিনি বলেন, “এটি আমার প্রথম ভারত সফর। ভারতে পা রাখার পর থেকেই সরকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যাদের সঙ্গে দেখা হয়েছে সবার কাছ থেকেই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছি। মনে হচ্ছে আমি যেন নিজের দেশের মানুষদের মাঝেই আছি… আমাদের ডিএনএ যেন এক—এই অনুভূতিই কাজ করছে।”

এই মন্তব্যটি আসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-আফগানিস্তান যৌথ কমিটির চতুর্থ বৈঠকের পর, যেখানে দুই দেশ তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করেছে।

ওমারি ভারতের আতিথেয়তাকে আফগান জনগণের জন্য আশার আলো হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “এই উষ্ণ অভ্যর্থনা আফগান জনগণের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের জন্য আশাব্যঞ্জক। আমাদের দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি, সেচ ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত—এখন সময় এসেছে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই খাতগুলোকে উন্নত করার।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান আফগান প্রশাসন উন্নয়ন কার্যক্রমকে সমন্বিত করতে কাজ করছে এবং দেশের সমৃদ্ধির জন্য বিদেশি সহযোগিতা সক্রিয়ভাবে খুঁজছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই দেশ মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা, ক্রীড়া, বাণিজ্য, ভিসা এবং সংযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছে।

ভারত আফগানিস্তানের উন্নয়নে সহায়তা অব্যাহত রাখার এবং এসব ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

উল্লেখ্য, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ভারত-আফগানিস্তান যৌথ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এম আনন্দ প্রকাশ এবং আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম রাজনৈতিক বিভাগের মহাপরিচালক শোয়াইব বার্যালাই যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন।

এই বৈঠকে মানবিক সহায়তা থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও যোগাযোগ—বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

About Desk 1

Check Also

মোদি-লাক্সন বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত: কৌশলগত অংশীদারিত্বে ভারত-নিউজিল্যান্ড

ভারত এবং নিউজিল্যান্ড তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পণ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *