ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কাতার-পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দুই মার্কিন সেনেটরের

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই রিপাবলিকান সেনেটর। তারা দুই দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করার অভিযোগ তুলে মধ্যস্থতার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রিপাবলিকান পার্টির সেনেটর Rick Scott অভিযোগ করেছেন, কাতার ও পাকিস্তানের অতীতে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত বন্ধু কারা, তা স্পষ্ট হওয়া উচিত।

ফ্লোরিডার এই সেনেটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, “এখন সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া উচিত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত বন্ধুরা কারা।” তিনি আরও দাবি করেন, কাতার ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ইতিহাসে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এবং বর্তমানে তারা অর্থবহ শান্তি প্রতিষ্ঠার চেয়ে ইরানের দীর্ঘদিনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে সমর্থন করতেই বেশি আগ্রহী বলে মনে হচ্ছে।

আরেক রিপাবলিকান সেনেটর Tim Sheehy পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি পাকিস্তানে Osama bin Laden-এর অবস্থানের বিষয়টি উল্লেখ করেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেন নিহত হন।

সেনেটর শিহি কাতারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, কাতার সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য অর্থ পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কাতার ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

দুই মার্কিন সেনেটরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। দুই দেশই আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যে কাতার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কূটনৈতিক আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যদিকে পাকিস্তানেরও আঞ্চলিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে। তবে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে তাদের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সেনেটরদের এই বক্তব্য মূলত ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের অংশ। একই সঙ্গে এটি ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের ভূমিকা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

About Desk 1

Check Also

অর্থনীতিতে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড

বিশ্ব অর্থনীতির ওঠানামা সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি পেলেন দুই আমেরিকান অর্থনীতিবিদ। ২০২৬ সালের অর্থনীতিতে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *