এইডস কর্মসূচিতে অর্থায়ন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র, চাপে পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচিতে দীর্ঘদিনের অর্থায়ন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ এইচআইভি ভাইরাসের সাথে লড়ায় করে জীবনযাপন করছেন। যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ। এতদিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি দেশটির এইচআইভি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। এবার থেকে তা বন্ধের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস মোকাবিলায় যে অর্থা সাহায্য করা হত ধাপে ধাপে সেই অর্থ প্রত্যাহার করা হবে। সিদ্ধান্তের পিছনে যুক্তি হিসেবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, আফ্রিকানার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যা মার্কিন প্রশাসনের নীতিগত প্রত্যাশা পূরণ না করায় প্রশাসনের কপে পড়ল দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হতে শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করে, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু নীতি শ্বেতাঙ্গ আফ্রিকানার জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণকে উৎসাহিত করছে। তবে এই অভিযোগ বারবার প্রত্যাখ্যান করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার।
দক্ষিণ আফ্রিকার মতে, কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে ‘ব্ল্যাক ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট’ নীতি প্রয়োজনীয় এবং এটি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার ঐতিহাসিক অসমতা দূর করার অংশ।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলাসহ দেশটির ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, এসব ‘অন্যায্য ও অনৈতিক’ অবস্থানের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আর আগের মতো সহায়তা দেওয়া হবে না।
২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বছরে প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিত যুক্তরাষ্ট্র। যা দেশটির মোট এইচআইভি কর্মসূচির ব্যয়ের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিল।
তবে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নোটিশ তারা পায়নি। একই সঙ্গে তারা আরও জানায়, বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা নিয়ে তারা অনেক দিন ধরেই কাজ করছে। সদ্য ঘোষণা করা ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ দক্ষিণ আফ্রিকাকে কতোটা বিপাকে ফেলবে আগামী দিনে তার উত্তর পাওয়া যাবে।

About Desk 1

Check Also

লেবানানের ওপর ইসরাইলের ফের বিমান হামলা, নিহত ১৫

দক্ষিণ লেবানানে ইসরাইলের বিমান হামলাতে অন্তত পক্ষে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সংবাদ সংস্থা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *