একসময় ‘চিকেনস নেক’ করিডর বিচ্ছিন্ন করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে (সেভেন সিস্টার্স) আলাদা করার মতো বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে আলোচনায় এসেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতা। সেই রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই এবার দেশের উত্তর সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পঞ্চগড়ে নতুন সেনানিবাস স্থাপনের দাবি তুললেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
বুধবার (১৭ জুন) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সারজিস। তিনি লেখেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পঞ্চগড়ে ক্যান্টনমেন্ট চাই।”
ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চগড় জেলা ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।
সারজিসের এই দাবির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই সীমান্তবর্তী এই জেলায় সেনানিবাস স্থাপনের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্তরাঞ্চলে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অবকাঠামো প্রয়োজন।
তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, যাঁরা অতীতে ভারতের ‘চিকেনস নেক’ করিডর নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন, তাঁরাই এখন সীমান্তবর্তী পঞ্চগড়ের নিরাপত্তা নিয়ে কেন এত উদ্বিগ্ন হয়ে সেনানিবাসের দাবি তুলছেন?
সমালোচকদের একাংশের মতে, অতীতে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যে আঞ্চলিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে সিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেনস নেক’ নিয়ে দেওয়া মন্তব্যগুলো ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিতর্ক তৈরি করেছিল।
সারজিস আলমের সমর্থকদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিষয়টি রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো যেকোনও সরকারের দায়িত্ব।
পঞ্চগড়ে সেনানিবাস স্থাপনের দাবি এখন নতুন করে উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। তবে এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
Geopulse TV
