মস্কোর তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের বড় হামলা, ৫৫৫ ড্রোন ধ্বংসের দাবি রাশিয়ার

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও তীব্র আকার নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ইউক্রেন মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। চলতি সপ্তাহে এটি ছিল ওই একই স্থাপনায় ইউক্রেনের দ্বিতীয় হামলা। আক্রমণের পর তেল শোধনাগার এলাকা থেকে আকাশে উঠে যায় ঘন কালো ধোঁয়া এবং দেখা যায় আগুনের লেলিহান শিখা।

কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়ার সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই পাল্টা আঘাত চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy এই হামলাকে সমর্থন করে বলেন, এটি রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহর ও সাধারণ মানুষের ওপর চালানো হামলার “সম্পূর্ণ ন্যায্য প্রতিক্রিয়া”। তাঁর দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া স্থাপনাগুলির বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয় সেনাদের অভিযানের এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

এর আগে চলতি সপ্তাহে রাশিয়া কিয়েভে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হন। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় Dormition Cathedral, যা ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত Kyiv-Pechersk Lavra মঠ কমপ্লেক্সের অংশ। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রাজধানীর সাংস্কৃতিক ও বেসামরিক স্থাপনার ওপর হওয়া অন্যতম ভয়াবহ হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইউক্রেনীয় হামলার পর রাশিয়া দাবি করেছে, তারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫৫৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করেছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, এর মধ্যে প্রায় ২০০টি ড্রোন মস্কো লক্ষ্য করে এগোচ্ছিল।

ড্রোন হামলার প্রভাব পড়ে বিমান পরিষেবাতেও। রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মস্কোর চারটি প্রধান বিমানবন্দর—শেরেমেতিয়েভো, দোমোদেদোভো, ভনুকোভো এবং ঝুকোভস্কি—থেকে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয়।

এদিকে হামলাটি ঘটে এমন এক সময়ে, যখন রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin কাজানে ASEAN নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করছিলেন। থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের নেতারা বৈঠকে অংশ নেন। ফিলিপাইনের প্রতিনিধিত্ব করেন প্রেসিডেন্ট Ferdinand Marcos Jr.।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে পুতিন বলেন, রাশিয়া ও ASEAN দেশগুলো একটি ন্যায্য বিশ্বব্যবস্থা, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌম সমতা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির পক্ষে একসঙ্গে অবস্থান করছে।

যুদ্ধ চতুর্থ বছরে প্রবেশ করার সময়ে মস্কোর এই হামলা ও পাল্টা প্রতিক্রিয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

About Desk 1

Check Also

বিশ্ব স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তায় জি৭-এর বড় পদক্ষেপ, অপরাধ দমনে একাধিক ঘোষণা

বিশ্ব স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় একাধিক ঘোষণা গ্রহণ করেছে জি৭ দেশগুলির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *