বিশ্ব স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আন্তঃদেশীয় সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় একাধিক ঘোষণা গ্রহণ করেছে জি৭ দেশগুলির শীর্ষ নেতারা। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। নেতারা এই চুক্তিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচলের গুরুত্বের ওপর জোর দেওয়া হয় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারের পদক্ষেপকে সমর্থন করা হয়।
অন্য একটি ঘোষণায়, মাদক পাচারকে জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় জি৭। এই উদ্যোগে অংশীদার দেশ ব্রাজিল ও দক্ষিণ কোরিয়াও সমর্থন জানিয়েছে। নেতারা বলেন, মাদক চক্রগুলো এখন আরও আধুনিক ও সীমান্ত পেরিয়ে কাজ করছে, যা দুর্নীতি, সহিংসতা এবং অবৈধ অর্থ প্রবাহ বাড়াচ্ছে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় সরবরাহ ও চাহিদা—উভয় দিকেই গুরুত্ব দিয়ে সমন্বিত ও প্রমাণভিত্তিক কৌশল গ্রহণে সম্মত হয়েছে জি৭। পাশাপাশি বন্দর ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘জি৭ প্লাস পোর্টস নেটওয়ার্ক’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে তথ্য আদানপ্রদান বাড়ানো এবং পাচার রুট ভাঙা সম্ভব হয়। একইসঙ্গে ইন্টারপোল ও ইউএনওডিসি-র মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানো এবং অবৈধ সম্পদের উৎস খুঁজে বের করে তা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জি৭ নেতারা মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধেও কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তারা একে গুরুতর আন্তঃদেশীয় অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে, যা দুর্বল মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল করে। এই চক্রগুলো ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার, অনলাইন ও আর্থিক নেটওয়ার্কে নজরদারি এবং উৎস ও ট্রানজিট দেশগুলির সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
Geopulse TV
