ইরানে সেনা পাঠিয়ে ইউরেনিয়াম উদ্ধারের পরিকল্পনা করেছিলেন ট্রাম্প, শেষ মুহূর্তে সরে আসেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে মার্কিন সেনা পাঠানোর একটি পরিকল্পনা তিনি বিবেচনা করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত সেটি বাতিল করেন। তার মতে, এমন অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এবং তা বাস্তবায়নে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি প্রয়োজন হতো।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইরানের ভেতরে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করেছিলেন। তিনি ওই পারমাণবিক উপাদানকে “নিউক্লিয়ার ডাস্ট” বা পারমাণবিক ধূলিকণা হিসেবে উল্লেখ করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগত। বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা ইরানে নিয়ে যেতে হতো, যা পুরো অভিযানকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলত। এসব কারণেই তিনি শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি অনুমোদন করেননি।

তবে পরিকল্পনা বাতিল করলেও যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা চাইলে এখনই এটি উদ্ধার করতে পারি। আমি মনে করি না কেউ আমাদের থামাতে পারবে। কিন্তু সেটি করার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি এখন কার্যত সমাধিস্থ অবস্থায় রয়েছে।”

ট্রাম্পের মতে, সংশ্লিষ্ট পারমাণবিক উপাদান এমন অবস্থায় রয়েছে যে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি সৃষ্টি করছে না। ফলে সেটি উদ্ধারের জন্য সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও কমে গেছে।

একই দিনে তিনি আরও বলেন, ইরানের কাছ থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করতে ওয়াশিংটনের কোনো নতুন চুক্তির প্রয়োজন নেই। যুক্তরাষ্ট্র চাইলে নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমেই সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বর্তমানে তার সঙ্গে সাক্ষাতের কোনো ইচ্ছা নেই। তবে ভবিষ্যতে যদি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা বা চুক্তি হয়, তাহলে বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

“যদি এমন কিছু ঘটে, আমি সম্মানজনক আচরণই করব,” বলেন ট্রাম্প।

৫৪ বছর বয়সী ইসলামি ধর্মীয় নেতা মোজতবা খামেনি তার পিতা নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় খামেনির পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তার বাবা, স্ত্রী ও ছেলেকে হত্যা করেছি, তাই আমি সম্ভবত তার সবচেয়ে পছন্দের ব্যক্তি নই। কিন্তু কিছু মহলে তার যথেষ্ট ভালো সুনাম রয়েছে।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা উসকে দিয়েছে।

About Desk 1

Check Also

H-1B ভিসায় বড় ধাক্কা! অতিরিক্ত ১ লাখ ৩ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থানের জনপ্রিয় H-1B ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ফি বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে দেশটির ডিপার্টমেন্ট …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *