ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি গাজা উপত্যকার ৭০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে দেশটির সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন। অক্টোবর থেকে কার্যকর থাকা নাজুক যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এমন ঘোষণা নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে আয়োজিত এক সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা এখন হামাসকে চেপে ধরছি। গাজার ৬০ শতাংশ এলাকা এখন আমাদের নিয়ন্ত্রণে।” ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এ প্রচারিত ভিডিওতে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী আগে সেনাবাহিনী ৫০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল, কিন্তু এখন তিনি “৭০ শতাংশ পর্যন্ত এগোনোর” নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা চারদিক থেকে তাদের চেপে ধরছি। এরপর যা বাকি থাকবে, সেটাও মোকাবিলা করা হবে।”
যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় আটক হওয়া শেষ জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হয়। এর বিনিময়ে ইসরায়েলে আটক ফিলিস্তিনিদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই হামলার পরই গাজায় ভয়াবহ যুদ্ধ শুরু হয়।
চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ধীরে ধীরে গাজা থেকে সরে যাওয়ার কথা থাকলেও, সেই প্রক্রিয়া কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে আছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীকে তথাকথিত “ইয়েলো লাইন”-এর পেছনে সরে যাওয়ার কথা ছিল। এই সীমারেখা হামাস নিয়ন্ত্রিত এলাকা ও ইসরায়েলি সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকার বিভাজন নির্দেশ করে। তবে গত ১৫ মে নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত করেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজাজুড়ে প্রতিদিনই সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও হামাস উভয়েই একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৯০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘও এই পরিসংখ্যানকে নির্ভরযোগ্য বলে বিবেচনা করে।
এদিকে ইসরায়েল বুধবার দাবি করেছে, তারা গাজায় হামাসের সামরিক শাখা এজেদিন আল-কাসসাম ব্রিগেডের নতুন প্রধান মোহাম্মদ ওদেহকে হত্যা করেছে। এর আগে চলতি মাসেই তার পূর্বসূরীকেও হত্যার দাবি করেছিল তেল আবিব।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আবারও গাজায় হামাসের শাসনের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি গাজার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনারও ইঙ্গিত দেন।
Geopulse TV
