যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র কোনো মতামত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মুখপাত্র Asif Mahmud Sajib Bhuiyan। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে তড়িঘড়ি করে এই চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে এনসিপিকে অবগতও করা হয়নি।
মঙ্গলবার এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলের আহ্বায়কসহ সংশ্লিষ্ট নেতাদের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে চুক্তির আগে এনসিপির কোনো ‘কনসার্ন’ বা মতামত নেওয়া হয়নি।
তার অভিযোগ, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, যিনি বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই এই চুক্তি সম্পন্ন করেছেন। যদিও তিনি ওই ব্যক্তির নাম সরাসরি উল্লেখ করেননি, তবে বক্তব্যে রাজনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
আসিফ মাহমুদের দাবি, এই চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য সরকারকে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই তা চূড়ান্ত করা হয়। তার মতে, এত দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “মানুষ এখন প্রশ্ন করছে, বিএনপি কি নির্বাচনের আগে দায় এড়ানোর জন্য এই চুক্তির দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিল?”
সংবাদ সম্মেলনে বহুল আলোচিত ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি স্বীকার করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী গ্রুপ ছিল, যাকে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বলা হতো। তবে তিনি নিজে ওই গ্রুপের সদস্য ছিলেন না বলে স্পষ্ট জানান।
সম্প্রতি সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা Touhid Hossain এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ থেকেই নেওয়া হতো।
তার ভাষ্যমতে, প্রতি মঙ্গলবার Jamuna-য় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো এবং সেখানেই বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হতো।
তৌহিদ হোসেনের এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিরোধী মহলের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত যদি আনুষ্ঠানিক কাঠামোর বাইরে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করে।
অন্যদিকে এনসিপির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্যচুক্তি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে নির্বাচনের ঠিক আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি এখন রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
Geopulse TV
