জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্বের নিয়মে কড়াকড়ি এবং তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধ করতে দুটি নির্বাহী নির্দেশে সই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার বিভিন্ন ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুটি নির্বাহী নির্দেশের মধ্যে একটি নির্দেশে এমন কিছু শ্রেণির শিশুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাঁদের বিদেশি বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার পরিস্থিতির কারণে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার নিয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের স্বীকৃত ঐতিহাসিক ব্যতিক্রমগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
অন্য নির্দেশটির লক্ষ্য ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বন্ধ করা। এই শব্দটি ব্যবহার করা হয় যখন বিদেশি নাগরিকরা মূলত সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তানের জন্ম দেন। ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রবণতা বন্ধ করতে বিদেশ দফতর এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দফতরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান ইতিমধ্যেই আইনি বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। গত জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এমন শিশুরাও সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার আওতায় পড়েন, যাঁদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা অস্থায়ী ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।
সেই রায়ের পরেও জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে নতুন নির্বাহী নির্দেশ কার্যকর হলে তা ফের আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি এবং নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Geopulse TV
