আফ্রিকার উন্নয়নে চাহিদাভিত্তিক সহযোগিতার বার্তা দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর

আফ্রিকার উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও চাহিদাভিত্তিক সহযোগিতার ওপর জোর দিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। নয়াদিল্লিতে আফ্রিকা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভারতের লক্ষ্য এমন উন্নয়ন সহযোগিতা গড়ে তোলা, যা আফ্রিকার দেশগুলির নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং তাদের জাতীয় অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহায়ক হবে।

জয়শঙ্কর জানান, বর্তমানে ভারত আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদার। গত বছরে ভারত ও আফ্রিকার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৯৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, আফ্রিকায় ভারতের মোট বিনিয়োগ ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে, যা দুই পক্ষের অর্থনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাকে তুলে ধরে।

বিদেশমন্ত্রী বলেন, আফ্রিকার প্রতি ভারতের নীতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০১৮ সালে উগান্ডার সংসদে দেওয়া ভাষণে ঘোষিত দশটি মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে। এই নীতিতে আফ্রিকাকে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভারত চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন অংশীদারিত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত বাজার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসারের মাধ্যমে আফ্রিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করে চলেছে। ডিজিটাল রূপান্তর, অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নেও ভারত বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ড. জয়শঙ্কর জানান, গ্লোবাল সাউথ বা উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রতি ভারতের অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন ঘটেছে জি-২০-তে ভারতের সভাপতিত্বের সময় আফ্রিকান ইউনিয়নকে স্থায়ী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগে। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আফ্রিকার আরও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ভারত ও আফ্রিকার সম্পর্ক গত কয়েক বছরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যে ভবিষ্যতেও এই অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

About Desk 3

Check Also

কঙ্গোর সংবিধান সংশোধন ঠেকাতে বিরোধীদের চাপ, তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (DRC) সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *